ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিলেন রিফাতের স্ত্রী, নেপথ্যে আরো ঘটনা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০১:৪১ পিএম
হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিলেন রিফাতের স্ত্রী, নেপথ্যে আরো ঘটনা!

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি নিহত রিফাতের স্ত্রী, তিনি জানান,‘নয়ন নামের ছেলেটা বিয়ের আগে আমাকে অনেক ডিস্টার্ব করতো। হুমকি ধামকি দিত, বলতো তুমি যদি কাউকে বলো যে আমি ডিস্টার্ব করতেছি, তাহলে তোমার ক্ষতি করবো। বলতো একসঙ্গে ছবি তুলতে হবে, আমি রিকসায় গেলে লাফ দিয়ে উঠতো রিকসায়। আমি ভয়তে এগুলো প্রথমে কাউকে জানাইনি। কিন্তু ডিস্টার্বের মাত্রা বাড়তেই থাকে। একটা সময় আর না পেরে বাসায় বলি। আমার ছোট কাকার সঙ্গে আলাপ করি। তারা এই নিয়ে চিন্তিত হয়ে রিফাতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে বিয়ে দেয়। তারপর আমি খুব সুখে ছিলাম। রিফাত আমাকে খুব ভালোবাসতো, আমিও তাকে ভালোবাসি।’

কিন্তু এই নয়ন আমার সুখ কেড়ে নিল। আমি নয়নের ফাঁসি চাই।  আশেপাশে যারা ছিল, তারাই আগে রিফাতের স্ত্রী মিন্নি ও রিফাতকে আটক করে। আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বলেন, সকাল ৯টার দিকে স্বামী রিফাত শরীফের সঙ্গে বরগুনা কলেজে আসি আমি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা দেই আমরা। বরগুনার কলেজ সড়কের ক্যালিক্স কিন্ডার গার্টেনের সামনে পৌঁছালে বেশ কয়েকজন যুবক আমাদের গতিরোধ করে। সেই সঙ্গে রিফাত শরীফকে মারধর শুরু করে তারা। এর মধ্যেই চাপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী।

মিন্নি বলেন, নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী চাপাতি নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে রিফাত ফরাজীর ছোট ভাই রিশান ফারজী। এরপরই রিফাত শরীফকে নির্মমভাবে চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী। আমি তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছুতেই তাদের থামাতে পারিনি। রিফাতকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায় তারা। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

মিন্নি আরও বলেন, ভিডিওতে যাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে মূলত তারাই প্রথমে রিফাত শরীফ ও আমার পথ আটকে দিয়েছিল। সেই সঙ্গে তিন-চারজন রিফাত শরীফকে মারতে শুরু করেছিল। নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী চাপাতি দিয়ে রিফাত শরীফকে কোপাতে শুরু করলে তারা পাশে দাঁড়িয়ে দেখেছিল। এরপর আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেও রিফাত শরীফকে বাঁচাতে পারিনি।

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ