ঢাকা, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভারিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি লাখো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০১৯ শুক্রবার, ১১:২৩ এএম
ভারিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি লাখো মানুষ

কয়েকদিনের টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বেশ কয়েকটি জেলায় পানি বেড়েছে। ইতিমধ্যে দেশের কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। পানিবন্দি হয়ে দিন কাটাচ্ছে অসংখ্য মানুষ।

এই টানা ভারিবর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী ও হাটহাজারীসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। সাঙ্গু ও হালদা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, নদী পাড়ের স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। সড়কের উপর পানি বাড়ায় আজও বন্ধ আছে অধিকাংশ যানবাহন চলাচল। এদিকে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা বৃষ্টিতে রংপুরে তিস্তার পানি বেড়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছার প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পান্দিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদি পশু নিয়ে তিস্তার বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে। নিরাপদ পানি ও খাদ্য সংকট সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন বন্যা দুর্গতের সহায়তা দেওয়ার কথা জানালেও দুর্গতরা এখনো তেমন সাহায্য পাওয়ার কথা জানাননি।

টানাবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধার তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ সব নদীর পানি বেড়েছে। স্থানীয়রা মনে করছে, এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে তাদের বসতবাড়ি ছেড়ে যেতে হবে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, গাইবান্ধা সদর এবং ফুলছড়ির নদী তীরবর্তী এলাকায় নিম্নাঞ্চলে পানি উঠতে শুরু করেছে।

লালমনিরহাটে প্রধান দুই নদী তিস্তা ও ধরলার পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় ৭ হাজার পরিবার।

অন্যদিকে, সুনামগঞ্জের ৫ উপজেলার লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার এবং ছাতক উপজেলার বিভিন্ন সড়ক পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষজন। জেলার বেশিরভাগ উপজেলার রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ-মাদ্রাসায় পানি ঢুকে পড়েছে।

আবার টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামে সব নদনদীর পানি বাড়ছে। পানিতে বন্দি হয়ে পড়েছেন কমপক্ষে ২০টি গ্রামের ১০ হাজার মানুষ।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ