ঢাকা, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

৮দিনেই জামিন ধর্ষক মেয়রপুত্রের, ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০১৯ শুক্রবার, ১২:০৪ পিএম
৮দিনেই জামিন ধর্ষক মেয়রপুত্রের, ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি

ধর্ষণ, নিপীড়নের যে হিড়িক পড়েছে দেশে, তা অজানা নয় কারোই। এর অপরাধের উপযুক্ত বিচার এবং শাস্তির বদলে কখনো কখনো মিলছে হুমকি। তেমনই ঘটেছে শরীয়তপুরে কলেজছাত্রী ধর্ষণ মামলায়। এই মামলায় গ্রেপ্তারের ৮ দিনের মাথায় জামিনে মুক্তি পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন আসামি।

এদিকে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত জাজিরা পৌরসভার মেয়র ইউনুছ ব্যাপারীর পুত্র মাসুদকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে এলাকার বিভিন্ন সংগঠন।

শরীয়তপুরে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তারের ৮ দিনের মাথায় গেল সোমবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন মামলার একমাত্র আসামি মাসুদ ব্যাপারী। মাসুদ জামিন পাওয়ায় ওই কলেজছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। ধর্ষণের শিকার ওই কলেজছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, জামিনে বেরিয়েই নানাভাবে তাদের হুমকি দিচ্ছেন অভিযুক্ত মাসুদ।

কলেজছাত্রীর বাবা অভিযোগে জানিয়েছেন, লজ্জা, ভয় ও আতঙ্কে মেয়েটি কুকড়ে আছে। সারাক্ষণ ঘরে বসে কান্নাকাটি করে। লজ্জায় মানুষের সামনে যেতে পারছে না। আবার এই সময়েই অপরাধী বেরিয়ে এসেছেন জামিনে। সে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে আতঙ্ক বিরাজ করছে এখন।

স্থানীয় পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। তারা ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছেন। শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল মামুন সিকদার বলেন, `ভুক্তভোগীর পরিবার যেন কোনো হুমকির সম্মুখীন না হয় এবং তার নিরাপত্তার জন্য যেন কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য আমরা সচেষ্ট আছি।`

ধর্ষণে অভিযুক্তকে দ্রুত জামিনের প্রতিবাদে মানবন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, নারী ও মানবাধিকার সংগঠন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ শে জুন সন্ধ্যার পর ঐ কলেজছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। ওই দিন, বিকেলে মাসুদ তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে কলেজছাত্রীকে বাড়িতে আসতে বলেন। পরে মেয়েটি সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাসুদের বাড়িতে আসেন। সেখানে মাসুদের পরিবারের কাউকে না দেখে বাড়ি ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু, মাসুদ তাকে ঘরে আটকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পরদিন জাজিরা থানায় মাসুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী। সেই মামলাতে ১ জুলাই মাসুদ ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

১ জুলাই মাসুদ ব্যাপারীকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ৭ জুলাই তার জামিন আবেদন করা হয় শরীয়তপুর জেলা আমলি আদালতে। এসময় তার সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন মাসুদ ব্যাপারীর জামিন ও রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুর করেন। পরে জেলা ও দায়রা জজ জামিন মঞ্জুর করে আসামিকে কারাগার থেকে মুক্তির আদেশ দেন মাত্র ৮দিনের মাথায়ই।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ