ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তাজিয়া মিছিলে রক্তাক্ত মাতম

নাজমুল হাসান সাগর
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার, ০১:২৯ পিএম
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তাজিয়া মিছিলে রক্তাক্ত মাতম

কারবালার ময়দানে এজিদ কর্তৃক নবী দৌহিত্র ইমাম হোসেনকে নির্মমভাবে হত্যা ও রক্তাক্ত সময়ের কথা স্মরণ করে ৪০০ বছর থেকে ঢাকায় পালিত হয়ে আসছে পবিত্র আশুরা। পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দীন রোডের হুসনি দালান থেকে আজ সকাল দশটায় একটি তাজিয়া মিছিল বের হয়ে ঢাকেশ্বরী-আজিমপুর আর নিউমার্কেট দিয়ে প্রধান সড়কগুলি প্রদক্ষিণ করে ধানমন্ডি এলাকায় গিয়ে আবার হুসনি দালান অভিমুখী ফিরে আসে।

এই তাজিয়া মিছিলে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশেষ করে শিয়া অনুসারিরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে একত্রিত হয় প্রতিবছর। বরাবরের ন্যায় এবারো সারাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় লক্ষাধিক শিয়ারা তাজিয়া মিছিলে যোগ দিয়েছেন। মিছিলে  তাজিয়া, আলম, ঝুলা, তাবত নিয়ে সমবেত হয়েছেন বিভিন্ন বয়সের নারী, শিশু ও পুরুষ। মিছিলে আছে দুইটি ঘোড়া, যাকে দুলদুল হিসেবেই চেনে সবাই।

মিছিলের ভেতরে সবাই বুক চাপড়িয়ে, হায় হুসেন, হাসান বলে মাতম করতে থাকেন। আরবি হরফে কালো ও সাদা ব্যানারে শোক বার্তা লিখে তারা নিজেদের রীতি অনুযায়ী শোক প্রকাশ করেন। এসময় প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজেদের বুক-পিঠ কেটে রক্তাক্ত অবস্থায় তারা মাতম করতে থাকেন। প্রশাসনিক নজর এড়িয়ে হাতে ছোট ব্লেড লুকিয়ে রেখে ভিরের মধ্যে বুক আর পিঠ চিড়ছিলেন তারা।

তাজিয়া মিছিলে যোগ দিতে আসা শিয়া সম্প্রদায়ের আবুল বারাকাত বলেন, আজ আমাদের শোকের দিন আজ আমাদের ভুল শুধরানোর দিন। আমরা যে ভুল করেছিলাম সেটা যেন আর মুসলিম ইতিহাসে পুনরাবৃত্তি না হয় তার জন্যেই এই শোকের আয়োজন।

হোসনি দালান ইমামবাড়ার প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি আসলাম জানান, ৪০০ বছর ধরে পুরান ঢাকায় শোকের মাতম অর্থাৎ তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। কারবালায় ইমাম হোসেনসহ তার পরিবারকে হত্যার মধ্যদিয়ে যে বিষাদময় ঘটনা ঘটেছে তারই শোকে এই মিছিল।  মিছিলে বিভিন্ন ধর্ম ও গোষ্ঠীর মানুষ অংশ নিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন রক্তাক্ত মাতম জানতে চাওয়া হয় মিছিলে রক্তাক্ত বুক পিঠ নিয়ে আসা এক যুবক তানজির আহমেদের কাছে। তিনি বলেন, এটা আমাদের ধর্মীয় কৃষ্টি। আমরা শত শত বছর ধরে এভাবেই শোক প্রকাশ করে আসতেছি। হুট করেই কেউ না করে দিলেই তো সেটা মানা হবে না। আমাদের ব্যাপারটা আমাদেরকেই বুঝতে দেওয়া উচিৎ।

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে কেউ কেউ কথা বলতে না চাইলেও দুই একজন বলছেন, এটা তাদের ধর্মীয় রীতির মধ্যে পড়ে। প্রশাসন এটার খারাপ দিক বিবেচনা করে এরকম কর্মকাণ্ড করতে নিষেধ করেছেন। এখন যদি তারা না মানে তাহলে জবরদস্তি করে মানানো যাবে না। এখানে ধর্মীয় ভাবমূর্তি কাজ করে।

মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে পবিত্র আশুরা পালিত হচ্ছে। এদিকে দুপুর একটার দিকে ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাজিয়া মিছিলটি আবার হুসনী দালানের দিকে রওনা করেছে।

উল্লেখ্য, দশই মহরম আজকের এই দিনে শুধু বাংলাদেশেই নয় বিশ্বে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতেও যথাযথ ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য্যের মাধ্যমে শোক পালিত হয়।

 

বাংলা ইনসাইডার/এনএইচ