ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তখনও বেঁচে ছিল আবরার; হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার, ০৩:৪৬ পিএম
তখনও বেঁচে ছিল আবরার; হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা

বুয়েটের শেরেবাংলা হলে থাকেন আরাফাত ও মহিউদ্দিন। আবরার ফাহাদও এই হলের শিক্ষার্থী। বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়ার পর মহিউদ্দিন তাঁকে দেখেন কাতরানো অবস্থায়। আর আরাফাত যখন আবরারকে দেখেন, তখন তাঁর পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। আবরার মারা যাওয়ার শেষ মুহূর্তের হৃদয় বিদারক বর্ণনা দেন আরাফাত ও মহিউদ্দীন।

আজ বুধবার বেলা দেড়টার দিকে এই দুই ছাত্র বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ওই ঘটনার বর্ণনা দেন। তখন ওই দুই ছাত্রসহ অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এর মধ্যে আরাফাত আফসোস করে বললেন, তিন-চার মিনিট আগে তিনি যদি সেখানে উপস্থিত হতে পারতেন, তাহলেও হয়তো আবরারকে বাঁচানো যেত।

মহিউদ্দিন বললেন, আবরারকে কাতরানো অবস্থায় দেখার সময় এক ছাত্রলীগ নেতা বলছিলেন, ‘ও নাটক করতাছে।’ তখনও যদি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া যেত হয়তো আবরার বেঁচে যেতেন।

আরাফাত বলেন, পড়া শেষে রাতে নিচে খাবার আনতে বেরিয়েছিলেন তিনি। তখনই দেখেন তোশকের মধ্যে একজন পড়ে আছেন। তখনো তাঁর চিন্তায় আসেনি এ রকম হতে পারে। তার ধারণা হয়েছিল, হয়তো কেউ মাথা ঘুরে পড়ে গেছে।

আরাফাত বলেন, ‘খোদার কসম, এক সেকেন্ডের জন্যও মাথায় আসেনি এভাবে কাউকে মারা হতে পারে।’ তিনি বলছিলেন, যখন আবরারের হাত ধরেন, তখন হাত পুরো ঠান্ডা, পা ঠান্ডা। শার্ট-প্যান্ট ভেজা। তোশক ভেজা। মুখ থেকে ফেনা বের হয়েছে। তিনি বলছিলেন, ‘তখন ওকে বাঁচানোর জন্য বুকে চাপ দিই। হাতে চাপ দিই। আশপাশের সবাইকে বলি, কেউ একজন ডাক্তারকে ম্যানেজ কর। এরপর ডাক্তার আসল। ডাক্তার দেখে বলেন, ১৫ মিনিট আগেই সে (আবরার) মারা গেছে।’

আফসোস করে কাঁদতে কাঁদতে আরাফাত বলছিলেন, ‘তিন-চারটা মিনিট আগে যদি খাবার আনতে যাইতাম, তাহলে হয়তো পোলাডারে বাঁচাইয়া রাখতে পারতাম। এই তিন মিনিটের আফসোসে আমি ঘুমাতে পারছি না। সারাজীবন আমি এই আফসোসের পিছু ছাড়তে পারবো না।’

আরাফাত এ বক্তব্য দেওয়ার পরপরই মহিউদ্দিন বলছিলেন, ‘আরাফাতের তো তিন মিনিটের আফসোস আছে, আর আমার আছে অনুতাপ।’

আরাফাত ফেলে রাখার দৃশ্য দেখার বর্ণনা দিয়ে বলেন, তখন আড়াইটার মতো বাজে। তিনি খেতে বের হয়েছেন। তখন দেখেন আবরার কাতরাচ্ছেন। তখনো ছাত্রলীগ নেতা জিয়ন বলছিলেন, ‘ও (আবরার) নাটক করতাছে।’ নিষ্ঠুরতা কাকে বলে তা দেখিয়েছে ওরা। এরা ঠান্ডা মাথার খুনী।

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ