ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০, ১ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ক্যানসার সহায়ক উপাদান থাকায় বেবি পাউডার তুলে নিচ্ছে জনসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার, ০৯:৩৫ পিএম
ক্যানসার সহায়ক উপাদান থাকায় বেবি পাউডার তুলে নিচ্ছে জনসন

মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি বেবি ট্যালকম পাউডারে ক্যানসার সহায়ক অ্যাসবেস্টসের সন্ধান মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমীক্ষার এই বিষয়টি সামনে আসার পরই বেবি পাউডারের কৌটা বাজার থেকে তুলে নিয়েছে কোম্পানিটি।

মার্কিন স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, এই প্রথম জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডারে অ্যাসবেস্টসের নমুনা পাওয়া গেছে। অ্যাসবেস্টস শিশু শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এর সংস্পর্শে এলে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।

তবে পাউডারে অ্যাসবেস্টসের মাত্র অনে কম হলেও কোনও ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কারণ অ্যাসবেস্টসের গুঁড়া শিশুদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই স্বাস্থ্য সংস্থার আদেশ জারি করার পরই বাজার থেকে ৩৩ হাজার বেবি পাউডারের কৌটা বাজার থেকে তুলে নিতে বাধ্য হয়।

এদিকে বহুজাতিক কম্পানিটির তরফ থেকে পাউডারে অ্যাসবেস্টস থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, কঠোর মান যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত করা হয় যে, জেএনজের কসমেটিক ট্যাল্ক নিরাপদ। বছরের পর বছর নিজেদের ও ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিন্সট্রেশন’র (এফডিএ) পরীক্ষায় আমাদের পাউডারে অ্যাসবেস্টসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এমনকি এফডিএ গত মাসের পরীক্ষাতেও এমন কিছু খুঁজে পায়নি। গত ৪০ বছরে একের পর এক হাজার হাজার পরীক্ষায় দেখা গেছে, আমাদের ট্যাল্ক পণ্যে অ্যাসবেস্টস নেই।

মেডিক্যাল গবেষণা অনুসারে দীর্ঘকাল অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শে মেসোথেলিওমা ও ফুসফুস ক্যান্সারের আশঙ্কা থাকে। এদিকে বেবিপাউডারে অ্যাসবেস্টসের অভিযোগ উঠার পর থেকেই শেয়ারবাজারে জনসন অ্যান্ড জনসনের স্টকে ৬ শতাংশ দরপতন হয়।

তবে জনসন অ্যান্ড জনসন পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। জনসনের মনোরোগ ওষুধ ‘রিসপেরডাল’ সেবনের ফলে এক যুবককে স্তনবৃদ্ধির মামলায় হেরে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮ বিলিয়ন ডলার নির্দেশ দিয়েছে পেনসিলভেনিয়ার একটি আদালত।

এসবের বাইরে আশঙ্কাজনক হারে আফিম জাতীয় ওষুধে আসক্তি বৃদ্ধির ব্যাপারেও এ জেএনজের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। এসব নিষ্পত্তিতে শত শত কোটি ডলার ব্যয়ভার বহন করতে হতে পারে এ কোম্পানিকে।

বাংলা ইনসাইডার