ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পদ্মা সেতুতে বসলো ১৫তম স্প্যান, দৃশ্যমান হলো ২.২৫ কিলোমিটার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৫:৩৯ পিএম
পদ্মা সেতুতে বসলো ১৫তম স্প্যান, দৃশ্যমান হলো ২.২৫ কিলোমিটার

পদ্মা সেতুতে বসালো হল ১৫তম স্প্যান। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে জাজিরা প্রান্তে সেতুর ২৩ ও ২৪ নম্বর খুঁটির ওপর এ স্প্যান (৪-ই) বসানো হয়। ফলে  দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ২২৫০ মিটার (২.২৫ কিলোমিটার)।

পদ্ম সেতুতে ১৫তম স্প্যান বসানোর জন্য কয়েক দিনে ধরেই প্রচেষ্টা চলছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আজ সকাল থেকেই স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়। প্রক্রিয়ার প্রথম অংশ হিসেবে প্রথমে দুই খুঁটির মধ্যবর্তী সুবিধাজনক স্থানে ভাসমান ক্রেনটিকে নোঙর করা হয়।  এরপর পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে স্প্যান তোলা হয় খুঁটির উচ্চতায়।  রাখা হয় দুই খুঁটির বেয়ারিংয়ের ওপর।

সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম ও নাব্যতা সংকটের কারণে ৩ মাসের বেশি সময় ধরে পদ্মাসেতুতে কোনো স্প্যান বসানো সম্ভব হয়নি। ড্রেজিং করেও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যাচ্ছিল না। কয়েকদিন আগে স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হলেও নাব্যতা সংকট বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ড্রেজিং করে পলি অপসারণ করেও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে নানা বাধা বিপত্তি পেরিয়ে স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়।

পদ্মা সেতুর প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম ও নাব্যতা সংকটের কারণে ৩ মাসের বেশি সময় ধরে পদ্মাসেতুতে কোনো স্প্যান বসানো সম্ভব হয়নি। ড্রেজিং করে পরি অপসারণ করে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে করলেও ১ থেকে ২ ঘণ্টা পরেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছিল নদীর তলদেশ। ধূসর রংয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটিকে ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ক্রেন বহন করে আনতে নাব্যতা সংকট বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তারা আরো জানায়, ইতোমধ্যে পদ্মাসেতুর আরও তিন স্প্যান প্রস্তুত হয়ে আছে।  নাব্য সংকটের কারণে সেগুলো বসাতে দেরি হচ্ছে। সেতুর ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩ নম্বর খুঁটির ওপর চার স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা আছে চলতি বছরের মধ্যে।

সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি একটি প্রতিষ্ঠান। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ