ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

৬১ ভাগ মৃত্যুই অসংক্রামক ব্যাধিতে

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৭ মঙ্গলবার, ০৪:০৩ পিএম
৬১ ভাগ মৃত্যুই অসংক্রামক ব্যাধিতে

দেশে মানুষ মৃত্যুর শতকরা ৬১ ভাগই ঘটে অসংক্রামক ব্যাধিতে। এর মধ্যে আছে, ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, নিউমোনিয়া, গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন জটিলতাসহ নানা ধরনের অসংক্রামক রোগ। এছাড়া আগুনে পোড়া, আত্মহত্যাসহ নানা ধরনের দুর্ঘটনায় মৃত্যুও অসংক্রমণের মধ্যে পড়ে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত হেলথ বুলেটিন ২০১৬-তে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

হেলথ বুলেটিনে বলা হয়েছে, দেশে ধুমপায়ী ও ধোঁয়াবিহীন তামাকসেবী বয়স্ক লোকের সংখ্যা প্রায় চার কোটি। ৬ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ পর্যাপ্ত ফলমূল ও শাকসব্জী খায় না। এক কোটি ৭০ লাখ মানুষ শারীরিক পরিশ্রম করে না। আর শতকরা প্রায় ১৮ ভাগ বয়স্ক মানুষের উচ্চ রক্তচাপ আছে।

হেলথ বুলেটিনে ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের রোগীদের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যাতে দেখা যাচ্ছে ওই সাত বছরের প্রায় প্রতিবছর ক্রমেই বেড়েছে হৃদরোগীর সংখ্যা। বছরগুলোতে ভর্তি হওয়া হৃদরোগীর সংখ্যা যথাক্রমে ৪১ হাজার ৫৫৪, ৪২ হাজার ৭৭৯, ৪৩ হাজার ২৭৫, ৪৪ হাজার ৫৫৯, ৪৩ হাজার ৩৪৭, ৪৯ হাজার ২৮৯ ও ৬৩ হাজার ৩৯০। আর বহির্বিভাগে যাওয়া রোগীর সংখ্যা যথাক্রমে এক লাখ ৬০ হাজার ৯, এক লাখ ৬১ হাজার ৯৫৮, এক লাখ ৬৩ হাজার ৮১৩, এক লাখ ৭৪ হাজার ৩৬৬, এক লাখ ৭২ হাজার ২৬৯, দুই লাখ ৫৩৩ ও দুই লাখ ২২ হাজার ১৮৬।

বুলেটিনে দেওয়া তথ্যানুসারে, ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত অসংক্রামক ব্যাধি আর্সেনিক রোগীর সংখ্যা প্রতি বছরই বেড়েছে। ওই পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান যথাক্রমে ২৪ হাজার ৩৮৯, ৩৮ হাজার ৩২০, ৫৬ হাজার ৭৫৮ ও ৬৫ হাজার ৯১০। এতে বলা হয়েছে ২০১২ সালে আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৩১ হাজার ২৩০ জন ছিল চট্টগ্রামে। শতকরা হিসাবে যা মোট রোগীর ৪৭ ভাগ। ওই সময়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকায় এই রোগী ছিল ১১ হাজার ৯০ জন, শতকরা ১৭ ভাগ। তাছাড়া রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও সিলেটে ছিল যথাক্রমে ৬ হাজার ১২০, ১ হাজার ৬৭৪, ১ হাজার ৫১২ ও ৬৮৬ জন।

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বলেছে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা বেশি মারা যাচ্ছেন অসংক্রামক ব্যাধিতে। আর ৫ বছরের কম বয়সী শিশু বেশি মারা যাচ্ছে অসংক্রামক ব্যাধি নিউমোনিয়ায়। আর মাতৃমৃত্যুও বেশি হচ্ছে প্রসবকালীন জটিলতায়, অথ্যাৎ অসংক্রামক ব্যাধিতে।

গড় আয়ু বৃদ্ধির পর্যালোচনা করে গত ৩৫ বছরের পরিসংখ্যান থেকে ব্যুরো বলেছে, বছরে পুরুষের গড় আয়ু দশমিক ৪৩ ও নারীর দশমিক ৫৩ বছর করে বেড়েছে। দেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭০ দশমিক ৬ বছর।

বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০১৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে পরিসংখ্যান ব্যুরোর এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। দুই লাখ ২০ হাজার ৮৭২টি পরিবারের (২০১৬ সালের) জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ ও স্থানান্তর-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে ব্যুরো। দুই হাজার ১২টি নমুনা এলাকা থেকে এসব তথ্য নেওয়া হয়। যেখানে জনসংখ্যা ছিল ৯ লাখ ৫৭ হাজার ৯১৩ এবং ১ বছরে মৃত্যু হয় ৪ হাজার ৮৩৯ জনের। এসব মানুষের মৃত্যুর পর্যালোচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। সম্প্রতি পরিসংখ্যান ব্যুরো এটি প্রকাশ করে।

সর্বাধিক মৃত্যুর ১৫টি কারণের তালিকাও প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে। এর শীর্ষে আছে বার্ধক্যজনিত কারণ। প্রায় ১৯ শতাংশ মৃত্যু হচ্ছে এই বার্ধক্যজনিত কারণে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে স্ট্রোক, যার ফলে ১৬ শতাংশ মৃত্যু হচ্ছে। তাছাড়া ৯ শতাংশ মৃত্যু হচ্ছে ক্যানসারে।

অন্যান্য, কারণের মধ্যে রয়েছে শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, উচ্চ রক্তচাপ, নানা ধরনের জ্বর, কিডনির সমস্যা, নানা ধরনের দুর্ঘটনা, স্নায়বিক স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, পানিতে ডোবাসহ অন্যান্য কয়েকটি বিষয়।

অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে রয়েছে, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, স্নায়বিক স্ট্রোক, ডায়াবেটিস। প্রায় অর্ধেক অর্থ্যাৎ ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ মৃত্যুর কারণ এসব ব্যাধি।

দেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুর প্রধান কারণও অসংক্রামন ব্যাধি। ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ শিশুর মৃত্যু হচ্ছে নিউমোনিয়ায়। অসংক্রামক ব্যাধি নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার শহরের চেয়ে গ্রামে অনেক বেশি।

শিশুমৃত্যুর অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে জন্ডিস, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, নানা ধরনের জ্বর, পানিতে ডোবা, অপুষ্টি, ডায়ারিয়া, জন্মগত হৃদরোগ। শ্বাসতন্ত্রের রোগ, জ্বর ও অপুষ্টিতে শিশুমৃত্যুর হার গ্রামের চেয়ে শহরে বেশি।

মাতৃমৃত্যু সবচেয়ে বেশি হচ্ছে প্রসবকালীন জটিলতায়। শতকরা হিসাবে যা ২৮ দশমিক ১ ভাগ। আর দ্বিতীয় প্রধান কারণ গর্ভধারণকালীন জটিলতা। ২৫ শতাংশ মাতৃমৃত্যু হয় অসংক্রামক এই কারণে। আর প্রসবপরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যাচ্ছেন ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ মা। এটিও অসংক্রামক ব্যাধি।

বাংলা ইনসাইডার/এমএএম