ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শিশু পুষ্টিতে এগিয়ে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৭ মঙ্গলবার, ০৮:০৭ পিএম
শিশু পুষ্টিতে এগিয়ে বাংলাদেশ

পুষ্টি সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত ৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বিশেষ করে পুষ্টি পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশের মতো খাদ্য, পুষ্টি, স্বাস্থ্যর দিক দিয়ে এগিয়ে না থাকলেও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশ।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে শিশু স্বাস্থ্যে উন্নতি সাধিত হলেও এখনো নারী ও শিশু অপুষ্টি বড় একটি সমস্যা।ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘বিশ্ব ক্ষুধা সূচক’ এ দেখা গেছে, ১১৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯০তম। অপুষ্টি, শিশুর উচ্চতার তুলনায় কম ওজন, বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা এবং শিশুমৃত্যুর হার বিবেচনায় নিয়ে এ সূচক তৈরি হয়েছে। যে দেশের স্কোর যত কম, সে দেশের পরিস্থিতি তত ভালো।

আবার বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে অনুযায়ী, ওজন বেশি এমন নারী এবং কিশোরী মেয়েদের সংখ্যা গ্রামাঞ্চলের চেয়ে শহরাঞ্চলেই বেশি দেখা যায়। সিলেট ছাড়া অন্যান্য সব জায়গায় উচ্চতার তুলনায় ওজন কম এমন নারীদের হার সমান। আবার বরিশাল এবং সিলিটে কম ওজনের কিশোরীদের হার বেশি। ২০১৩-১৪ সালে সিলেটে কম ওজনের কিশোরীদের হার অনেক বাড়লেও কম ওজনের নারীদের হার বাড়েনি। গত কয়েক বছরে, কিশোরীদের পুষ্টি অবস্থার তেমন উন্নতি না হলেও নারীদের ক্ষেত্রে এসেছে অনেক পরিবর্তন।

বর্তমান সরকার শিশুদের মায়ের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে খুবই সোচ্চার। এজন্য সরকার মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করেছে। মায়েরা যেন সন্তানদের বুকের দুধ নির্বিঘ্নে খাওয়াতে পারেন সেজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একটি কর্নার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০১৪ সাল লাগাদ, মায়ের দুধ পান করে এমন অনুর্ধ ৬ মাস বয়সী শিশুর হার দেখা গেছে ৫৫ শতাংশ। খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টির নজরদারি প্রকল্পর তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ সালে এমন শিশুদের হার ছিল ৪৩ শতাংশ কিন্তু ইউইএসডির ২০১৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী মায়ের দুধ পান করে অনুর্ধ ৬ মাস বয়সী শিশুর হার ৬০ শতাংশ।

সুস্বাস্থ্যের লক্ষ্যে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্রচারণার আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সের শিশুদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ বিতরণকে বাংলাদেশ সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। প্রতি বছরে এক বা দুইবার সরকার ভিটামিন এ বিতরণের ব্যবস্থা নেয়। এই প্রচারণার আওতায় স্বেচ্ছাসেবীরা এক লাখ ৪০ হাজার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এই ভিটামিন ‘এ’ বিতরণ করে থাকে।

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্রচারণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের প্রথম রাউন্ডে ৯৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২য় রাউন্ডে ৯৯ শতাংশ ভিটামিন এ বিতরণ করা হয়। অপর দিকে, ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের প্রথম রাউন্ডে ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২য় রাউন্ডে ৯৯ শতাংশ ভিটামিন এ বিতরণ করা হয়।

বিগত ৮ বছরের তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন এ বিতরণের আওতাভুক্ত হয়েছে ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ৯৯ শতাংশ শিশু। ২০১৩ সালে ৯৭ শতাংশ আবার ২০১৪ সালে তা বেড়ে ১০০ শতাংশে পৌঁছায়। কিন্তু ২০১৫ সাল নাগাদ তা আবার কিছুটা কমে আসে। সূচকে ১ শতাংশ।

পুষ্টি সেবার দিকে খেয়াল করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জেলা উপজেলাভিত্তিক মোট ৪২৪ টি শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতাল রয়েছে। ২০০ টি তীব্র অপুষ্টি সেবাদান ইউনিট এবং ৩৯৫ টি আইএমসিআই ও পুষ্টি সেবাদান কেন্দ্র রয়েছে।সরকারের এসব কর্মসূচির কারণে আগের চেয়ে অনেক শিশু পুষ্টি, মাতৃপুষ্টির হার বেড়েছে।


বাংলা ইনসাইডার/আরএস