ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৮ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রাবেয়া-রোকেয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২০ রবিবার, ০৭:৫৭ পিএম
রাবেয়া-রোকেয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস

অপারেশনের মাধ্যমে আলাদা করা মাথা জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম নেওয়া দুই বোন রাবেয়া-রোকেয়া এখন ভালো আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (১৯ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে একথা জানান।

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব খোকন লেখেন, “রোববার (১৯ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর শিশু দুটির সুস্থ জীবনে ফিরে যাওয়ার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটির সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ছবি সবাইকে দেখিয়ে বলেন- ‘আমাদের রাবেয়া-রোকেয়া ভালো আছে’।”

তিনি আরও বলেন, স্কুল শিক্ষক দম্পতি রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা খাতুনের মুখে এখন খুশির ঝিলিক, হাসি লেগেই আছে। দুঃশ্চিন্তার ছায়া অনেকটাই এখন কেটে গেছে। আদরের সন্তান রোকেয়া- রাবেয়াকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সন্তানদের হাসিমাখা মুখ দেখে চোখে আনন্দ অশ্রু।

কিছুদিন আগেও মুখে হাসি ছিল না। কারণ তাদের আদরের সন্তান ফুটফুটে রোকেয়া- রাবেয়া অন্য শিশুদের মতো স্বভাবিক ছিল না। তাদের জন্ম ১৬ জুলাই ২০১৬ সালে পাবনার চাটমোহরে। দুইবোন জন্ম থেকেই ছিল মাথা জোড়া লাগা অবস্থায়। স্থানীয় একটা ক্লিনিকে তাদের জন্ম। নাওয়া-খাওয়া ভুলে এরপর থেকেই বাবা-মায়ের যত চিন্তা সব দুই সন্তানের সুস্থতা নিয়ে। তারা যখন দিশেহারা দেশের লাখো পরিবারের মতো তাদের পরিবার আলোক বর্তিকা হয়ে আসেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোকেয়া-রাবেয়াকে দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর ওইদিন প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে সেখানে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটেরও উদ্বোধন করেন।

রোকেয়া-রাবেয়ার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে টানা ৩৩ ঘন্টা অপারেশন চালিয়ে তাদের মাথা আলাদা করা হয় গত বছরের ২ আগস্ট। সার্জারির পর সিএমএইচ হাসপাতালে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের দেখেও আসেন। দেশের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছাড়াও হাঙ্গেরির ৩৫ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এতে অংশ নেন।

এর আগে, সাত মাস তাদের রাখা হয় হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের একটি হাসপাতালে।