ঢাকা, রোববার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সংগঠন মাথাব্যথায় আ. লীগ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০১৭ সোমবার, ০৮:২৭ এএম
সংগঠন মাথাব্যথায় আ. লীগ

একটার পর একটা ঝামেলা যেন লেগেই রয়েছে ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের উপর। কখনো দলীয় কোন্দল তো কখনো সংগঠন দলগুলো নিয়ে মাথাব্যথার শেষ নেই দলটির। নামের আগে পরে লীগ শব্দ জুড়ে দিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে প্রায় দেড়শ সংগঠন। ক্রমন্বয়ে বাড়ছে নামসর্বস্ব এসব সংগঠনের সংখ্যা। তার তা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে আওয়ামী লীগ।

১০ বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে তারপরও পুরোনো কমিটি দিয়ে চলছে সংগঠনটি। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের স্বীকৃত সহযোগী সংগঠনের সংখ্যা ৭টি। এগুলো হচ্ছে- মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, তাঁতী লীগ এবং যুব মহিলা লীগ। এছাড়া ছাত্রলীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এবং শ্রমিক লীগ ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন।

দলীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ২০১২ সালে সর্বশেষ সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই বছরের ১১ই জুলাই স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ১৪ই জুলাই যুবলীগ, ১৯শে জুলাই কৃষক লীগ, ১৭ই জুলাই শ্রমিক লীগ এবং ২০১১ সালের ১০ ও ১১ই জুলাই ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। এরপর আবার মুখ থুবড়ে পড়ে এ কার্যক্রম।

মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, তাঁতী লীগের সম্মেলন বিগত এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও হয়নি। সর্বশেষ ২০০৩ সালের ১২ই জুলাই মহিলা আওয়ামী লীগ, ২০০০ সালের ১১ই মার্চ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, ২০০৪ সালের ৮ই আগস্ট তাঁতী লীগ এবং একই বছরের ১৫ই মার্চ যুব মহিলা লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়। ফলে দীর্ঘ সময় সম্মেলন না হওয়া ও নতুন নেতৃত্ব না আসাতে একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে এসব সংগঠনের কার্যক্রম।

দলীয় সূত্র থেকে আরও জানা যায়, বিগত ২০০৯ সালের প্রথম মেয়াদে মহাজোট সরকারের সময় দলের কোন কোন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের জন্য আওয়ামী লীগকে বারবার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদেও। দলের ভ্রাভৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বারবার বিব্রত হতে হচ্ছে দল ও সরকারকে। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ ২ বছর।

এই ৯টি সংগঠনের বাইরে আওয়ামী লীগের কোনো অঙ্গসংগঠন বা ভ্রাতৃ সংগঠন নেই। কিন্তু দল ক্ষমতায় আসার পর ব্যাঙের ছাতার মতো অসংখ্য সংগঠন বঙ্গবন্ধু ও লীগের নাম ব্যবহার করে চলেছে। বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যদের নামও ব্যবহার করছে তারা।

সে সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, বঙ্গবন্ধু একাডেমী, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমী, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু জাতীয় লেখক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, আওয়ামী মোটর চালক লীগ, চেতনায় মুজিব, আওয়ামী যুব আইনজীবী পরিষদ, রাসেল মেমোরিয়াল একাডেমী, শেখ রাসেল শিশু পরিষদ, শেখ রাসেল শিশু সংসদ, আওয়ামী তরুণ লীগ, মৎসজীবী লীগ, রিকশা মালিক লীগ, বাস্তুহারা লীগ, আওয়ামী হকার্স লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, আওয়ামী ছিন্নমূল হকার্স লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, দেশীয় চিকিৎসক লীগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মচারী লীগ, নৌকার নতুন প্রজন্ম লীগ, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী, `৭৫-এর ঘাতক নির্মূল কমিটি, ২১ আগস্ট ঘাতক নির্মূল কমিটি, জননেত্রী পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, ডিজিটাল বাংলাদেশ, পরিবর্তন ফাউন্ডেশন, সিএনআরএস, স্বাধীনতা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক পরিষদ, আওয়ামী যুব সাংস্কৃতিক জোট, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, সোনার বাংলা গঠন পরিষদ, সম্মিলিত যুব-পেশাজীবী পরিষদ, পরিবহন শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ, স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি প্রতিরোধ কমিটি, প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ, প্রজন্ম `৭১, মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী সংগঠন, নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, মুক্তিযুদ্ধ সমাজ কল্যাণ যুব সংঘ, অরোরা ফাউন্ডেশন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণমুক্তি আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের কল্যাণ পরিষদ, বঙ্গ্বন্ধু ফাউন্ডেশন, ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া ফাউন্ডেশন প্রভৃতি।

১৯৯৬ সালে ওলামা লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ওলামা লীগ সংগঠনটি নিজেদের আওয়ামী লীগের সমর্থক সংগঠন হিসেবে দাবি করলেও কখনও তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। আওয়ামী লীগের সমর্থক সংগঠন হিসেবে পরিচিত ওলামা লীগের কার্যক্রম বন্ধ করে নতুন একটি ধর্মভিত্তিক সমর্থক সংগঠন করার প্রস্তাব নিয়ে দলটিতে পক্ষে-বিপক্ষে দু`টি মত দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সময় এ দলের কর্মকাণ্ড প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হেফাজতে ইসলামের মতো ওলামা লীগও পাঠ্যপুস্তকে ইসলাম বিরোধী পাঠক্রম আছে বলে দাবি তুলেছিল। বাংলা বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধেও সংগঠনটি অবস্থান নিয়েছিল।

ওলামা লীগের দু`টি অংশ একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে কট্টরপন্থী অবস্থান নেয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাদের অনেকে এর সাথে তাদের দলের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে আসছিলেন।

এসব দলের নেতাদের কোনো দিন রাজপথে দেখা যায়নি। শুধু স্বার্থসিদ্ধির জন্য এ জাতীয় সংগঠন জন্ম নেয়। এক সময় হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও এদের খোঁজ মেলেনি। অথচ নাম ভাঙিয়ে বেশ সুবিধা ভোগ করছে এরা। এ থেকে পরিত্রাণের পথ কি আদৌ খুঁজছে ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ?

বাংলা ইনসাইডার/টিআর

বিষয়: আওয়ামী-লীগ