ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যেভাবে বিত্তের পাহাড় পাপিয়া-মফিজুর দম্পতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ রবিবার, ০৯:৫৯ পিএম
যেভাবে বিত্তের পাহাড় পাপিয়া-মফিজুর দম্পতির

র‌্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাপিয়া-মফিজুরের বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্ত অর্জনের নেপথ্যের কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানান র‌্যাব সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল। তিনি বলেন, পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান নরসিংদী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়ে প্রতারণা, জমির দালালি, সিএনজি পাম্পের লাইসেন্স ও গ্যাস সংযোগ দেওয়ার নামে মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

এ পর্যন্ত র‌্যাবের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাপিয়া-মফিজুর দম্পত্তি পুলিশের এসআই ও বাংলাদেশ রেলওয়েতে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নামে ১১ লাখ টাকা, একটি কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা ও একটি সিএনজি পাম্পের লাইসেন্স দেওয়ার নাম করে ২৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। তবে টাকার বিনিময়ে কাউকে চাকরি কিংবা পাম্পের লাইসেন্স ও গ্যাসের সংযোগ দিতে দিতে পারেননি তারা। তবে নরসিংদী এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড রয়েছে তাদের, যার মাধ্যমে তারা কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।

শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, পাপিয়া-মফিজুর দম্পত্তির আয়ের আরও একটি উৎস নারীদের দিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করানো। তারা চাকরি দেওয়ার নাম করে নরসিংদী থেকে তরুণীদের ঢাকায় নিয়ে আসত। এরপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে তাদের অনৈতিক কাজে যুক্ত হতে বাধ্য করত। রাজধানীর বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করে এসব মেয়েদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া মেয়েরা।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, নরসিংদীতে পাপিয়া-মফিজুর দম্পত্তির একটি ক্যাডার বাহিনী রয়েছে। ওই ক্যাডার বাহিনীর নাম দিয়েছেন ‘কিউ অ্যান্ড সি’। এই বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যদের হাতে ট্যাটু করা আছে। তাদের কাছে সবসময় আগ্নেয়াস্ত্র থাকে। তাদের দুইটি হাইয়েস গাড়ি দেওয়া হয়েছে, তারা সেই গাড়িতে করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে বেড়ায়। তাদের পাঁচটি মোটরসাইকেলও রয়েছে। এসব গাড়িতে করে মাসোহারা আদায়, চাঁদাবাজির টাকা তোলা এবং অস্ত্র ও মাদকের ব্যবসা দেখাশোনা করত তারা। র‌্যাব তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক বলেন, তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এই টাকা হুন্ডির কি না, তা এখনো জানতে পারিনি। তবে টাকা ব্যাংকে না রেখে বাসায় কেন রেখেছে- এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি পাপিয়া। আমরা অনুসন্ধান করছি, টাকার উৎস বের হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব সিও বলেন, অর্থ পাচার ও জাল মুদ্রা রয়েছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে পাপিয়া, তার স্বামী মফিজুর রহমান ও তাদের দুই সহযোগীকে আটক করা হয়। এরপর সব চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে।

প্রভাবশালী অনেকের সঙ্গেই পাপিয়ার ছবি দেখা গেছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, কোনো অপরাধীর সঙ্গে কারও ছবি থাকা মানেই যে তিনি অপরাধে জড়িত, এমন নয়। কোনো ধরনের পরিস্থিতিতে অনেকের সঙ্গেই অনেকে ছবি তুলে থাকতে পারেন। এগুলো ব্যক্তির অনুমতির বিষয়।

পাপিয়া-মফিজুর দম্পতি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় অস্ত্র, মাদক ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান র‌্যাব সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল।