ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিদেশ ফেরত এত মানুষ গেল কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক    
প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৯:০০ পিএম
বিদেশ ফেরত এত মানুষ গেল কোথায়?

দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধের উপায় খুঁজতে গিয়ে দুটি উপায়কে অধিক কার্যকর বলে এখনো মনে করছেন বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকগণ। যার একটা হচ্ছে সন্দেহভাজন (বিদেশ ফেরত বাংলাদেশি) পরীক্ষা করা ও কোয়ারেন্টাইনে রাখা। কিন্তু একাধিক কারণে এই দুটো উপায় অবলম্বন করতে বাংলাদেশ সরকার সফল হতে পারেন নি, পিছিয়ে আছে। সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে যে, গত ১৫ দিনে বিদেশ থেকে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ দেশে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে সন্দেহভাজন ৪৬৯ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু বিদেশ ফেরত সবার কোয়ারেন্টাইনে থাকার বা রাখার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ১৭ হাজার। তাহলে এত মানুষ গেল কোথায়?

একটি অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, এদের একটা বিরাট অংশ ঢাকা শহরের মত বড় বড় শহরে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের বাসায় আছেন। আর আরেকটি অংশ গলা কাটা পাসপোর্টে ইউরোপের মত দেশে গিয়েছিলেন যাঁদের আসল ঠিকানায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। সেই নামে সেই ঠিকানায় কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না। এদের মধ্যে অনেকেই গত দুইদিন আগে বাড়ি ফিরে গেলেও বাইরে না বেরুনোর ফলে কেউ কাউকে না দেখায় তাঁদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।  এর মাঝে সেনা টহলের ফলে সবাই ঘরের মধ্যে আছেন।

গত দুই দিনে শহরের মানুষ দূরত্ব বজায় না রেখে হুড়োহুড়ি করে বাসে ও ফেরিতে যেভাবে বাড়ি ফিরেছে তাতে ব্যাপক আকারে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর সাথে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি উপলক্ষে যে জনসমাগম হয়েছিলো তাতেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে।

এমতাবস্থায়, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ব্যবহার করে তথ্য গোপন করে লুকিয়ে থাকাদের খুঁজে বের করা সম্ভব। কিন্তু দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেহেতু সবাই ঘরের মধ্যে সেলফ কোয়ারেন্টাইনের মত আছেন, তাই তাঁদের খোঁজ করার চেষ্টা সরকার বাদ রেখে মানুষকে ঘরের মধ্যে থাকা আর করোনাভাইরাসের উপসর্গ আছে এমনদের পরীক্ষার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবুও, এক শ্রেণীর নাগরিকগন তাঁদের নাগরিক দায়িত্ব পালন না করে সরকারের কাছে নাগরিক সুবিধা চাইছেন, আর এতে এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী আর কিছু চিহ্নিত মিডিয়া তাতে উস্কানি দিচ্ছে, ভীতি ছড়াচ্ছে। এটা বন্ধ করা দরকার। তাঁরা বলছেন বিদেশ ফেরত এত মানুষ গেল কোথায়?