ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

করোনার তাণ্ডব থামবে কবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০২০ শুক্রবার, ০৬:৫৮ পিএম
করোনার তাণ্ডব থামবে কবে?

শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের মানুষের কাছে এটি এখন কোটি টাকার প্রশ্ন করোনার তাণ্ডব থামবে কবে? করোনার কারণে প্রায় তিন মাস হলো সারাবিশ্বের অর্ধেক মানুষ ঘরবন্দি হয়ে আছে। নিশ্চল হয়ে পড়েছে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। মানুষ অজানা আতঙ্কে এবং অচেনা আশংকায় এক উদ্বিগ্ন দিন কাটাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই মানুষ এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়, মুক্তি চায়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো বিশেষজ্ঞ, কোনো বিজ্ঞানী অথবা কোনো সংস্থা বলতে পারছে না, কবে এ পরিস্থিতি ঠিক হবে। কবে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে বিশ্ব।

বাংলাদেশের কথাই ধরা যাক,গত ২৬ মার্চ থেকে ছুটি শুরু হয়েছে, যা পরবর্তীতে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ মানুষ একটা দমবন্ধ করা অবস্থার মধ্যে আছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশের মতো দেশে যারা নিম্ন আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত তারা পড়েছে ভয়াবহ বিপদে। জনস্বাস্থ্যের হুমকির চেয়েও খাদ্যের নিশ্চয়তা, বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত এবং হতাশাগ্রস্ত।

১৭ মার্চ ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী। একটা উৎসবমুখর পরিবেশ হওয়ার কথা ছিল গোটা দেশজুড়ে। কিন্তু সেই উৎসবের লাগাম টেনে ধরেছে করোনা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের উৎসবেও বাঙালী শামিল হতে পারেনি। সামনে পয়লা বৈশাখ। বাঙালী জাতির সবচেয়ে বড় উদযাপনের উপলক্ষ্য। সেই পয়লা বৈশাখ মূল অনুষ্ঠান ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। এরপরই শুরু হচ্ছে রোজা। করোনার তাণ্ডব কি রোজার মধ্যেও থাকবে? তাহলে মানুষের কি হবে? এই রোজার পরপরই মে মাসে রয়েছে ঈদ। কাজেই মানুষ জানতে চায়, কবে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে। শুধু স্বাভাবিক জীবনে ফেরার বিষয় নয়, বরং মানুষের মধ্যে করোনা নিয়ে অনেক রকম প্রশ্ন উৎকণ্ঠা এবং অস্থিরতা কাজ করছে। যে প্রশ্নগুলো মানুষ করতে চায় তা হলো-

১. কেন করোনার কোনো চিকিৎসা এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করতে পারছে না বিশ্ব? যে বিশ্বের বিজ্ঞানীরা ক্লোনের গবেষণা করে সফল হচ্ছে, তারা একটি ভাইরাসের কাছে কেন এত অসহায়?

২. করোনার যে প্রকোপ এদেশ থেকে ওদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং কোনো দেশেই তা থামছে না, থামানো যাচ্ছে না কেন?

৩. করোনার ফলে যে অর্থনৈতিক দুরবস্থা হবে এই অর্থনৈতিক দুরবস্থা শুধুমাত্র আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা রাষ্ট্রের দুবেলা খাবারের মধ্যে দিয়ে কি সমাধান করা সম্ভব হবে?

৪. বিশ্বের যে কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হচ্ছে, তারা কখন কর্মচাঞ্চল্যে ফিরবে?

৫. সারা বিশ্বজুড়ে করোনার কারণে যে বিচ্ছিন্নতা শুরু হয়েছে, তা থেকে মানুষ কবে মুক্তি পাবে?

এই প্রশ্নগুলো নিয়েই মানুষের মূল প্রশ্ন হচ্ছে, কবে থামবে করোনার তাণ্ডব?

করোনার তাণ্ডব থামার ক্ষেত্রে আমরা উদাহরণ দিতে পারি চীনকে। চীনে গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে করোনার প্রকোপ শুরু হয়েছিল। এখন বলা যেতে পারে করোনা সেখানে মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও করোনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং দ্বিতীয়বার করোনা আক্রান্তের উদ্বেগজনক খবর পাওয়া যাচ্ছে। চীনের কোনো কোনো যদিও এখনও স্বাভাবিক জীবন ফিরে এসেছে, তারপরও চীন সরকার বলছে, তাদের পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও একমাস লাগবে। অর্থাৎ যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে চীনের করোনা মোকবেলা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগবে মোট চার মাস। সে বিবেচিনা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্যরাজ্য কিংবা ইতালি , স্পেন- এই দেশগুলোতে করোনার তাণ্ডব থামতে আরও দুমাস বেশি সময় লাগবে। অর্থাৎ মে মাসের শেষ পর্যন্ত এই দেশগুলোতে করোনার তাণ্ডব থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি কী?

বাংলাদেশের পরিস্থিতিটা একটু নাজুক এ কারণে যে-

প্রথমত; এখন পর্যন্ত আমরা করোনার প্রকৃত অবস্থা কী সেটা জানতে পারিনি।

দ্বিতীয়ত, আমরা সামাজিক সংক্রমণ কীভাবে হয়েছে, কতদূর পর্যন্ত হয়েছে সেটাও জানতে পারিনি।

করোনার তাণ্ডম একটা দেশে থামা নির্ভর করে সে দেশের সামাজিক সংক্রমণ কত ব্যাপাওক বিস্তৃত হয়েছে , তার উপর। আমরা যদি জানতে পারতাম করোনার সামাজিক সংক্রমণ বাংলাদেশে কতটুকু বিস্তৃত, তাহলে আমরা কিছুটা হলেও অনুমান করতে পারতাম। তবে বিভিন্ন দেশগুলোর করোনার বিস্তৃতি এবং করোনার গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় যে, বাংলাদেশে হয়তো বাংলাদেশে হয়তো আগামী মে মাস জুড়েই এই অবস্থা থাকবে। আবার কেউ কেউ মনে করছে, জুন পর্যন্ত তা গড়াতে পারে। এর বিপরীতে বাংলাদেশে কিছু আশার কথাও আছে। যেমন-

প্রথমত; এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ ব্যাপক বিস্তৃত হয়নি। যদিও সীমিত সংখ্যক পরীক্ষা হয়েছে, তারপরও যে হার, তা থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশে হয়তো করোনা ভয়াবহ আকারটা ধারণ করবে না।

দ্বিতীয়ত; বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত না হলেও ধারণার দিক দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা হলো- উষ্ণ আবহাওয়ায় করোনা বেশি বিস্তৃত হতে পারে না।

তৃতীয়ত; আমাদের মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

আর সবকিছু মিলিয়ে আমরা খুব আশাবাদী হলে মনে করতে পারি যে, আমাদের দেশে ৮ মার্চ করোনার প্রকোপ ধরা পড়েছিল। এপ্রিল মাসটা আমাদের জন্য খুবই সংবেদনশীল মাস এই করোনার প্রকোপ কোন দিকে যায়, তা বোঝার জন্য। এরপর মে মাসে হয়তো আমরা পরিস্থিতিকে একটা একটা দিক নির্দেশনামূলক পথে নিয়ে আসতে পারবো এবং তখন হয়তো আমরা আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো। তবে এরকম অনুমান করে আশাবাদী হওয়া যায়, কিন্তু এখন পর্যন্ত করোনার শেষ কোথায়, তার কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক উত্তর কেউ খুঁজে পাননি।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি