ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

করোনা সংক্রমণকে খাটো করে দেখছি কী!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০২০ শুক্রবার, ০৮:৩০ পিএম
করোনা সংক্রমণকে খাটো করে দেখছি কী!

গতকাল ও আজকের করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণের খবর দেখে অনেকেই আঁতকে উঠছেন। পুলিশ ও সেনাবাহিনী মাঠে নামার পরেও মানুষের জটলা খুব একটা কমেনি। দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে সন্দেহভাজন কেউ মারা যাচ্ছে সেখানেই লক-ডাউন করা হচ্ছে। যদিও তাঁদের সবার মধ্যে না হলেও মৃত কারো কারো দেহে করোনাভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গেছে, সবার না। তবুও কেন লক-ডাউন হচ্ছে, আতংকে না সন্দেহে।

অন্যদিকে খবর বেরিয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্পকারখানা চালানো যাবে। শিল্পকারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকার থেকে আসেনি। গত বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা, মন্ত্রীপরিষদ সচিব, সেনাবাহিনী প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে এক সভা শেষ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা কারখানা চালাতে চান, তাঁরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারাখানা চালাবেন।’

বাংলাদেশের কারখানা শ্রমিক বাদই দিলাম শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে কতটুকু জানেন! তাঁরা কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। এটা তো দীর্ঘ অভ্যাসের ব্যাপার। রাতারাতি কী কারো জীবনাচরণ পরিবর্তন সম্ভব! তাই যদি হতো তাহলে পুলিশ, সেনা সদস্যদের এত নিষেধ স্বত্বেও মানুষ কেন অহেতুক ঘুরাঘুরি করছে। এখানে অনেক মানুষ আছে যারা কাজ ফেলে সময় নষ্ট করে আবার সময় নষ্ট করার মত সময় আছে অনেকেরই। তা না হলে রাস্তায় বাঁদর নাচ বা সাপ খেলা দেখতে ৪/৫ শ’ লোক তো জড় হবার কথা নয়!  যেখানে সেখানে থুতু কেলা, কলার খসা বা ময়লা ফেলা আমাদের অধিকাংশের অভ্যাস। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালান কি বাস্তব সম্মত!

উইকিপিডিয়া সূত্র বলেছে, ইতালিতে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এ বছর ৩১শে জানুয়ারি। এত দিনেও সেখানে ভাইরাসের মৃতের ভয়াবহতা তাঁরা রুখতে পারেন নি। যদিও জ্ঞান বিজ্ঞানে তাঁরা অনেক উন্নত। স্পেনে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে চলতি বছর ৩১শে জানুয়ারি। এখন এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ। এত দিন পার হবার পরে সেখানে দলে দলে মানুষ মরছে। বলা যায় চলছে মৃত্যুর মিছিল, ইতালির মত। এখন যে সংখ্যা দেবো, এই খবর পড়তে পড়তে সেই সংখ্যা আর ঠিক থাকবে না। জ্ঞান বিজ্ঞান, অর্থে বিত্তে, শক্তিতে বিশ্বের মহা শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ২০শে জানুয়ারি ২০২০। এখনো সেখানে মৃত্যুর মিছিল, আক্রান্তের সংখ্যা অনেক আগে দুই লাখ ছাড়িয়েছে । যুক্তরাজ্য, ইরান বা অন্য দেশে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার কথা নাইবা বললাম। এটা সবার জানা।         

আমাদের দেশে মার্চ মাসের ৮ তারিখে ৩ জনের দেহে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। ২৬শে মার্চ আমরা চীন থেকে করোনা মোকাবিলার কিছু উপকরণ হাতে পায়। সেই হিসেবে মাত্র ২৭ দিন আগে প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যেও করোনা সংক্রমিত দেশ থেকে মানুষ আসা বন্ধ হয় নি। যে পরিমাণ লোক করোনাভাইরাস সংক্রমিত দেশ থেকে এসেছেন তাতেই আমাদের রেমিটেন্স কমেছে প্রায় ১২%। আরও হয়তো কেউ কেউ আসতেও পারেন বিভিন্ন উপায়ে। দেশের দিন দিন করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ধীরে হলেও বাড়ছে। 

তাই যারা ভাবছেন করোনা ভাইরাস প্রায় রুখে দিয়েছি আমরা, তাঁদের কী ভুল হচ্ছে না! অনেকে ভাবছেন করোনাভাইরাস থাকলে তো এতদিনে লক্ষণ প্রকাশ পেত। কারণ ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৪ দিন। সেই ১৪ দিন অনেক আগেই পার হয়ে গেছে আমাদের দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ কিন্তু থেমে নেই আক্রান্তের সংখ্যা কম করে হলেও ৬০ এর বেশি।     

তাই ইতালির রাতো শহরের মত নিজে নিজে ঘরের মধ্যে আটকে থাকা, না হয় সেনাবাহিনী দিয়ে কঠোরভাবে মানুষকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা ছাড়া কী কোন বিকল্প আছে! আমরা কী করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে খুব খাট করে দেখছি!