ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

বস্তির মানুষ করোনায় কম আক্রান্ত কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ মে ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৭:০০ পিএম
বস্তির মানুষ করোনায় কম আক্রান্ত কেন?

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে, শহর থেকে গ্রামে। তবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হল ঢাকা মহানগরী। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে যে ২৮ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে তাদের আর্থিক অবস্থা এবং পেশাগত অবস্থা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে সাধারণত উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষই করোনা রোগে সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত। এই করোনা সংক্রমণের হার মধ্যবিত্তের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, তার পরই উচ্চবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্ত তার পরে। মজার ব্যাপার হল, যারা বস্তিতে থাকেন, একদম দরিদ্রসীমার নিচে যাদের বসবাস তাদের মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা একদম কম।

এ পর্যন্ত যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের পেশাগত বিবরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন তাদের মধ্যে বস্তিবাসী বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী খুবই কম। এটি নিয়ে নতুন করে গবেষণা করা দরকার বলে মনে করছেন বিশ্লেষক এবং গবেষকরা। যেমন, জুরাইন-যাত্রাবাড়ীতে অনেক করোনা রোগী বাড়ছে এবং করোনা রোগী পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ওই এলাকায় যে বস্তিগুলো রয়েছে সেখানে তেমন কোনও করোনা রোগী নেই। একই অবস্থা মহাখালী বস্তিতেও। কিন্তু কেন এটি হচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এর পিছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। এই কারণগুলো হল-

১. গরীব মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি

গরীব মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই অনেক বেশি। তাদের কঠিন পরিশ্রম করতে হয়, বেঁচে থাকার জন্য নিয়মিত সংগ্রাম করতে হয়। এর ফলে তাদের মধ্যে ইমিউন সিস্টেম তৈরি হয় আপনাআপনিভাবে। তারা বাসি পঁচা খাবার খেয়ে অভ্যস্ত,  এ কারণে তাদের উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্তদের তুলনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি।

২. পরীক্ষায় তাদের আগ্রহ নেই

করোনা সনাক্ত করনের একমাত্র উপায় হল পরীক্ষা করা। কিন্তু যারা বস্তিতে বসবাস করছেন তারা করোনা পরীক্ষায় আগ্রহী নন। বরং করোনা পরীক্ষায় সময় ব্যয় করার চেয়ে সেই সময়টা রুটি রুজি চেষ্টায় ব্যয় করাটাই তাদের জন্য বেশী জরুরী। এই আগ্রহহীনতার কারণে তারা পরীক্ষার আওতায় আসছেন না। এই কারণেই দেখা যাচ্ছে যে রোগীর সংখ্যা কম।

৩. জ্বর সর্দি কাশিকে তারা গুরুত্ব দেয় না

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে বস্তি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি সব সময় থাকে। এসব নিয়েই তারা বসবাস করেন। এজন্যই এই সব অসুখ বিসুখকে তারা পাত্তা দেন না। এ কারণে করোনার যে উপসর্গ সেই উপসর্গগুলোতে তারা উদ্বিগ্ন হন না। তাদের মধ্যে এই ধরনের সচেতনতাও না থাকার কারণে তারা এগুলোকে উপেক্ষা করেন। হয়ত অনেকেই এই উপসর্গ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পরীক্ষার আওতাভুক্ত না থাকার কারণে তিনি করোনা রোগী হিসেবে স্বীকৃত নন।

৪. প্রচণ্ড শারীরিক পরিশ্রম

করোনা প্রতিরোধের যে উপায়গুলো এখন পর্যন্ত বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা দিচ্ছে তা হল ভিটামিন ডি প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করা, শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা, ঠিকমতো ঘুমানো এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করা। প্রত্যেকটি বিষয়ই বস্তিবাসীরা অনেক এগিয়ে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একাধিক গবেষণায় দেখা যায় বস্তির মানুষগুলার মধ্যে দুশ্চিন্তা অনেক কম। যেহেতু তারা রোঁদে, বৃষ্টিতে ঘোরা ফেরা করেন, তাদের প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়, এ কারণে তাদের করোনা সংক্রমণ কম হতে পারে বলে অনেকেই ধারণা করছেন।

৫. সচেতনতার অভাব

বস্তি এবং দরিদ্র মানুষরা জানেই না করোনা কি। করোনা নিয়ে তাদের কোন আতংক নেই, পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। বরং তারা এক বস্তিতে গাদাগাদি করে এক সঙ্গে থাকছেন। ত্রাণের জন্য লাইন দিচ্ছেন। করোনার কোন রকম সচেতনতা তাদের মধ্যে দেখা যায় না। এর ফলে এক ধরনের উপেক্ষা এবং পরীক্ষা এড়িয়ে থাকার এক ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তারা করোনায় আক্রান্ত কিনা সেটা জানাই এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।