ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

আত্মহননের পথই বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ মে ২০২০ শুক্রবার, ০৬:০০ পিএম
আত্মহননের পথই বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ

করোনা মোকাবেলায় চিকিৎসা নয়, আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনার পিক সময়ে বাংলাদেশ সরকার এবং মানুষ যে সমস্ত কর্মকাণ্ড করছে, তা স্পষ্টভাবেই আত্মহননের পথ, করোনা থেকে মুক্তির পথ নয়। কারণ জনগণ এবং সরকার যদি করোনা থেকে মুক্তির পথ খুঁজতো, তাহলে কঠোর লকডাউন করা দরকার ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে এখন ঠিক তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। লোকজন অবাধে চলাফেরা করছে। দোকানপাটে উপচেপড়া ভিড়। মানুষ কেনাকাটা এবং ঈদের ছুটিতে ঘরে ফিরতে ব্যস্ত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এর ফলে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির যে ভয়ঙ্কর অবস্থাটা হবে, তা হবে আত্মহত্যার শামিল। আত্মহননের জন্য মানুষ যেমন নিজেই সিদ্ধান্ত নেয়, তেমনি একটি আত্মহননের সিদ্ধান্তই বাংলাদেশ নিয়েছে বলে দৃশ্যত মনে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বাংলাদেশ আত্মহননের পথে ছুটে চলেছে। এর কারণ হলো পাঁচটি। এগুলো হলো-

১. মানুষ কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানছে না

করোনা সঙ্কটের সময় অধিকাংশ মানুষই কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। তারা অবাধে চলাফেরা করছে। শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরেও দোকানপাটগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। মানুষ অবাধে কেনাকাটা করছে। এমনভাবে চলাফেরা করছে যেন, করোনাকে তারা ভয়ই পান না। এর ফলে ব্যাপকভাবে করোনা সংক্রমিত হচ্ছে। বিশেষ করে, যখন সর্বোচ্চ সীমায় করোনা পৌঁছেছে এবং যখন বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহভাবে বাড়ছে, তখন এ ধরনের অবাধ চলাচল এবং স্বাস্থ্যবিশি না মানা এক ধরনের আত্মহনন বলেই মন করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২. ঢাকার সংক্রমিতরা ছড়িয়ে পড়ছেন সারাদেশে

ঢাকার মানুষ ঈদ করতে ঘরে ছুটছে এবং তারা কোনো বিধি নিষেধ এমনকি যান বাহনেরও প্রত্যাশা করছে না। গণপরিবহন বন্ধ কিন্তু যে যেভাবে পারছেন, ঢাকার বাইরে ছুটে যাচ্ছেন। পায়ে হেঁটে, লঞ্চে, ফেরিতে কিংবা ভাড়া করা গাড়িতে ছুটছেন তারা। আমরা জানি যে, ঢাকা হলো সবচেয়ে সংক্রমিত এলাকা। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের হটস্পট হলো ঢাকা শহর। অথচ এই ঢাকা শহর থেকেই যে মানুষগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাচ্ছেন, তারা কি একবার ভেবেছেন যে, তারা সংক্রমিত কিনা। তারা যদি করোনা সংক্রমিত হন, তাহলে ছোট ছোট গ্রাম বা অঞ্চলে তারা যে করোনা ছড়িয়ে দেবেন, তখন পরিস্থিতি কি ভয়ংকর হতে পারে এ সম্পর্কে কোনো ধারণা রয়েছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি হবে স্রেফ আত্মহত্যা।

৩. চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে

বাংলাদেশে করোনার শুরুর দিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলো চিকিৎসা ছিল না বললেই চলে। সরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। এখন অনেকগুলো বেসরকারি হাসপাতালকে করোনা পরীক্ষার সুযোগ দেয়া হয়েছে এবং বলা হচ্ছে যে আউটডোরে পরীক্ষা করতে দেয়া হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ সারাবিশ্বের বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, করোনা চিকিৎসা এবং সাধারণ চিকিৎসাকে পৃথক করতে। কিন্তু করোনা পরীক্ষা এবং অন্যান্য চিকিৎসা একসাথে চলার যে সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্ত আরেকটি আত্মহত্যার শামিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে হাসপাতালে যারা জরুরী চিকিৎসাসেবা নেন, যেমন হৃদরোগী, কিডনী রোগী, ডায়ালাইসিসের রোগী- তারা সঙ্কটে পড়বে এবং হঠাৎ করেই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে। এটা এক ধরনের আত্মহননের পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. পরীক্ষা এখনো সীমিত

করোনা সংক্রমণের ৭৫তম দিন আজ বাংলাদেশে। এই ৭৫তম দিনের মধ্যে মাত্র একদিন ১০ হাজারের উপরে পরীক্ষা করা হয়েছিল, সেটা গতকাল। আজকে আবার পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। ৯ হাজার ৭২৭ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে। আমরা ল্যাব বাড়িয়েছি অনেক, ৪২ টি থেকে ৪৭ টি ল্যাব বানানো হয়েছে। কিন্তু ল্যাব বাড়লে কি হবে? পরীক্ষার সংখ্যা দশ হাজার অতিক্রম করছে না। ফলে একটি বিপুল জনগোষ্ঠী পরীক্ষার বাইরে থাকছে এবং পরীক্ষার বাইরে থাকার কারণে তারা অবাধে চলাফেরা করছেন এবং অবাধে চলাফেরা করে তারা করোনা সংক্রমণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটা হলো আমাদের আত্মহত্যার আরেকটি দিক।

৫. হাসপাতাল ছাড়া রোগীর সংখ্যা

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনার চিকিৎসা নিয়ে ৫ হাজার ৬০২ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন। অথচ তাদের অনেকেরই করোনা মুক্তির ক্ষেত্রে পরপর ২৪ ঘণ্টায় যে দুটি পরীক্ষা হয়, সে পরীক্ষা দুটি হয়নি। ফলে হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের সুস্থ মনে করছেন এবং তারাও করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে দিচ্ছে। এভাবে বাংলাদেশ এখন একটি গণআত্মহত্যার দ্বারপ্রান্তে এবং আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা করোনাকে আলিঙ্গন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

করোনা মোকাবেলা নয়, করোনাকে আলিঙ্গন করে আত্মহননের এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। আর যে কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৪ জন মারা গেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এই অবস্থা চলতে থাকলে মৃত্যুর সংখ্যা আচমকাই অনেক বেড়ে যাবে এবং এটা আমাদের কারোরই নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।