ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত!  

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২০ শনিবার, ০৯:৩৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত!  

আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান সম্পদ আমাদের জনসংখ্যা।  যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক গবেষণা-প্রতিষ্ঠান পপুলেশন কাউন্সিলের ২০১৯ সালের ভাষ্যমতে, `বর্তমানে প্রতিবছর বাংলাদেশে জনসংখ্যা বাড়ছে ২৫ লাখ করে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বর্তমান ধারায় চলতে থাকলে ২০৩৭ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেড়ে হবে কমপক্ষে ২১ কোটি এবং ২০৫১ সালে তা ২৮ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।` এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে আমরা যদি আধা দক্ষ বা দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারি তাহলে এটা আমাদের জন্য একটা বড় সম্পদ।

জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের ভাষায় বাংলাদেশের জন্য এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যা থেকে ‘লভ্যাংশ’ পাওয়ার সময়। জনমিতির পরিভাষায় ডিভিডেন্ড বলতে বোঝায় ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী মানুষের আধিক্য। এ বয়স সীমার মানুষই সবচেয়ে কর্মক্ষম, যারা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। একটি সূত্রে জানায়, বাংলাদেশে ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স ১৫ থেকে ৫৯ বছরের এর মধ্যে। এই সময়কে জনসংখ্যার বোনাসকাল বলে।

ইউনিসেফের তথ্য মতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ। এখানে বাস করে ১৬ কোটিরও বেশি মানুষ। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশ, অতএব ৬ কোটিরও বেশি শিশু। আবার ২৫ বছরের নীচের জনসংখ্যা হিসেব করলে তা হচ্ছে মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬০ ভাগ অর্থাৎ প্রায় ৯.৫ কোটির কাছাকাছি। এদের বিরাট অংশই যায় স্কুলে, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ে।  

জনসংখ্যাকে সম্পদ মনে করেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল ও কলেজ বন্ধ থাকবে। ঢাকায় গণভবনে কয়েকটি জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিং এ প্রধানমন্ত্রী ২৭ এপ্রিল ২০২০ এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "স্কুল-কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটাও আমরা এখন খুলবো না। সেটা আমরা কখন খুলবো, অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই স্কুল-কলেজ সবই বন্ধ থাকবে, যদিও না করোনাভাইরাস তখনো অব্যাহত থাকে। যখন এটা (করোনাভাইরাস) থামবে, আমরা তখনি খুলবো।"

প্রধানমন্ত্রী কতটা দূরদর্শী তাঁর প্রমাণ হিসেবে মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছে যে, ফ্রান্সে ফের স্কুল খোলার এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে ৭০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। দেশের শিক্ষামন্ত্রী এমনটাই জানিয়েছেন। ফ্রান্সে স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ১৭ মার্চ থেকে। কারণ দেশে যাতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে না যেতে পারে তার জন্যই তখন এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও ফ্রান্সে এক লাখ আশি হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং ২৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত দুই মাস ধরে লক-ডাউন চলার পর, ফ্রান্সে ধীরে ধীরে এ ব্যাপারে কিছু নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা শুরু হয়। যার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কিছু দোকানপাট, প্রি-স্কুল এবং এলিমেন্টারি স্কুল খোলা হবে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী জিন মাইকেল ব্ল্যানকোয়ার জানিয়েছেন, স্কুল খোলার এক সপ্তাহের মধ্যে ৭০টি নতুন করোনা আক্রান্তের কেস পাওয়া গেছে।