ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

সব ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৭:২৫ পিএম
সব ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু

সরকার সাধারণ ছুটির মেয়াদ না বাড়ানোয় স্বাভাবিক লেনদেনে ফিরতে যাচ্ছে দেশের ব্যাংকগুলোও। আগামী রোববার (৩১ মে) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব ব্যাংকে লেনদনে চলবে। তবে করোনা ভাইরাসের মাঝারি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনটি সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি, কর্মকর্তা, সন্তানসম্ভবা গ্রাহক ও কর্মকর্তা ব্যাংকে যেতে পারবেন না। কর্মকর্তাদের নিজ দায়িত্বে যাতায়াত করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, রাজধানীর মতিঝিল ও দিলকুশা এবং চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদ এলাকায় সব ব্যাংকের সব শাখা প্রতি কর্মদিবসে খোলা থাকবে। অন্যদিকে শ্রমঘন শিল্প এলাকায় সব ব্যাংকের সব শাখা আগের নিয়মে খোলা থাকবে।

বিশেষ বিশেষ এলাকায় ব্যাংকের শাখা খোলা রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর (পোর্ট ও কাস্টমস) এলাকায় ব্যাংকের শাখা ও বুথ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হবে। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমিত মাঝারি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লেনদেন সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চলবে। অন্য কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য বিকেল চারটা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা রাখা যাবে।

এতে আরও বলা হয়, গ্রাহকের প্রয়োজনে নগদ-চেকের মাধ্যমে জমা-উত্তোলন, ডিডি, পে-অর্ডার ইস্যু, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে। এছাড়াও ট্রেজারি চালান গ্রহণ, সরকারের সামাজিক কার্যক্রমের আওতায় ভাতা-অনুদান বিতরণ, বৈদেশিক রেমিটেন্সের অর্থ পরিশোধ, প্রণোদনাগুচ্ছের কার্যক্রম, যাবতীয় নিয়ম মেনে ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম, গ্যাস, বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ, পেমেন্ট সিস্টেমের আওতাধীন অন্য লেনদেন সুবিধা দিতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে এনআরবি বন্ড, বিভিন্ন প্রকার সঞ্চয়পত্রের লেনদেন এবং এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে বলা হয়, ৩০ মে’র পর আর সাধারণ ছুটি থাকছে না। তবে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করে অফিস খোলা রাখতে বলা হয়েছে। এই সময়ে সীমিত পরিসরে গণপরিবহনও চালু রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে সেক্ষেত্রে গণপরিবহনে যাত্রীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এরই মধ্যে রোববার থেকে পুঁজিবাজার খোলার ঘোষণা এসেছে। গণপরিবহনগুলো বাড়তি ভাড়ায় চলবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। ৪ অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচলের ঘোষণাও এসেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওই আদেশে বলা হয়েছিল, ব্যাংকগুলো খোলা রাখা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করবে। সে প্রজ্ঞাপনে স্বাভাবিক ব্যাংকিংয়ে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।