ঢাকা, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

সাবধান! অনলাইনেই তৎপর জঙ্গীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২০ বুধবার, ১১:০১ এএম
সাবধান! অনলাইনেই তৎপর জঙ্গীরা

২০১৬ সালের ১ জুলাই অর্থাৎ আজকের দিনে রাজধানীর হলি আর্টিজানে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএস সমর্থিত নব্য জেএমবির হামলায় প্রাণ হারান দেশি-বিদেশি ২৩ জন মানুষ। আহত হন আরো অনেকে। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই জঙ্গি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মুখে হামলাকারী নব্য জেএমবির অনেকেই নিহত হন। অনেকে গ্রেফতার হন। ইতিমধ্যে হামলাকারী সাত জঙ্গির ফাঁসির রায় হয়েছে। তারপরও থেমে নেই জঙ্গি কর্মকাণ্ড। ভিন্ন ভিন্ন নামে জঙ্গি সংগঠনগুলো তাদের অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধঘোষিত হিযবুত তাহরীর ও আনসার আল ইসলাম অনলাইনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া মাঝেমধ্যে আল-কায়েদা ইন সাবকনটিনেন্ট (একিউআইএস) নামের জঙ্গি সংগঠনটি অনলাইনে বিবৃতি দিয়ে তাদের উপস্থিতি জানান দেয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার (ডিএমপি) মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে মানুষ স্বাভাবিকভাবে বেশি সময় বাসায় থাকছেন। এখন বাসায় ধর্মীয় সাইটগুলোতে বেশি ভিজিট করছে মানুষ। এই সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা কিন্তু কন্টিনিয়াসলি করোনার মধ্যেও ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। লোন উলফ বা একাকী হামলার জন্য তারা উদ্বুদ্ধ করছে, বিশেষ করে পুরুষ সদস্যদের ওপর হামলা করার জন্য। কী কী কায়দায় হামলা করতে হবে, একটি হাতুড়ি হলেও সেটি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করা, এ ধরনের নানাবিধ প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে।’

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলায় নিহতদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে বুধবার (১ জুলাই) সকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ‘হলি আর্টিসান হামলার পর থেকে একের পর এক আমরা জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছি এবং ওদের সক্ষমতা যে পর্যায়ে ছিল, সেটি এখন একেবারে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে এসেছে। এখন তারা যে সমস্ত ইম্প্রভাইজ বা বোমা বানায়, তাদের বড় এক্সপার্ট যারা ছিল তাদের সবাই আমাদের হাতে ধরা পড়েছে। জেলে আছে। অনেকে বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে। তাই এখন সে ধরনের সক্ষমতা তাদের নেই।’

জঙ্গি বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সুযোগ নিয়ে অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে জঙ্গিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনলাইনের বিভিন্ন চ্যানেলে প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে সদস্য সংগ্রহের পর বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে হামলার প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আগে ফিজিক্যালি বিভিন্ন দুর্গম এলাকা যেমন চর ও পার্বত্য এলাকায় প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও এখন তারা ডিজিটাল প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে। সেখানে হামলা থেকে শুরু করে আত্মরক্ষার নানা কৌশল শেখানো হচ্ছে। আবার হিযবুত তাহরীর তাদের অবস্থান জানান দিতে মাঝেমধ্যেই লিফলেট প্রচার করছে। সম্প্রতি লিফলেটসহ বেশ কয়েক জন হিযবুত তাহরীর সদস্য গ্রেফতার হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। তারা যে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি এটাই তার প্রমাণ।