ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীনতার জন্যই মধ্যবয়সীরা করোনায় বেশি মারা যাচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ জুলাই ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৪:০০ পিএম
‘স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীনতার জন্যই মধ্যবয়সীরা করোনায় বেশি মারা যাচ্ছে’

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘মধ্যবয়সীরা নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীন থাকেন। অসুখ বিসুখের ব্যাপারে তারা ঠিকঠাকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন না। কাজের চাপ এবং বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে তারা নিজেদের অসুখগুলোকে গোপন করেন। করোনায় যখন তারা আক্রান্ত হচ্ছেন তখন দেখা যাচ্ছে যে, তাদের অনেকের ডায়াবেটিস আছে, অনেকের উচ্চ রক্তচাপ আছে। কিন্তু তারা কখনও চিকিৎসকের পরামর্শ নেননি। এ রকম বাস্তবতায় বাংলাদেশে মধ্য বয়সীরা আক্রান্ত হলে গুরুতর অসুস্থ হচ্ছেন এবং অনেকেই মারা যাচ্ছেন।’  ‘বাংলা ইনসাইডার’ এর সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনকার আলাপচারিতায় ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রায় ৪০ ভাগ এ বয়সের মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। কেন এটা হচ্ছে এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘একজন মানুষ যখন প্রবীণ হন, তখন তার সন্তানরা তার দেখাশোনা করেন, তার অসুখ বিসুখের জন্য নিয়মিত চিকিৎসক দেখানো হয়। একটা রুটিনের মধ্যে তিনি জীবন যাপন করেন। তাকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হয়। কিন্তু একজন মধ্যবয়সী যিনি সংসারের সব বোঝা সামাল দেন, তিনি ভাবেন, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের দেখাশোনা কে করবে। তিনি তার কাজের চাপ এবং নানা বাস্তবতার কারণে চিকিৎসার ব্যাপারে উদাসীন থাকেন। এ কারণে তিনি নিজেও হয়তো জানেন না যে, তার উচ্চ রক্তচাপ আছে অথবা তিনি ডায়াবেটিসে ভুগছেন। কিংবা তার হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে। যখন তিনি করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তখন তার এই রোগগুলো ধরা পড়ে, এ ধরনের অসুখে যারা আক্রান্ত হন, তাদের জন্য করোনা খুব ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।

ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ মনে করেন যে, আমাদের বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে প্রবীণরা অনেক বেশি নিরাপদ। কারণ তারা সন্তানদের তত্ত্বাবধানে থাকেন। সন্তানরা তাদের চিকিৎসা করান। হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু মধ্যবয়সীরা এরকম কারও তত্ত্বাবধানে থাকেন না। তাদের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা রয়েছে।

মধ্যবয়সীদের আক্রান্ত হওয়ার আরও কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এই বয়সের মানুষ বাইরে বেশি ঘোরা ফেরা করছেন, সেজন্যেও তারা করোনার ঝুঁকিতে থাকছেন। এই মধ্যবয়সীদের মধ্যে ধূমপানের অভ্যাস বেশি। ধূমপান যারা করেন, তারা করোনায় আক্রান্ত হলে খুবই ঝুঁকির মধ্যে পড়েন। এছাড়া মধ্যবয়সীদের মধ্যে মদ্যপান, মাদকাসক্তি এবং ড্রাগ গ্রহণের প্রবণতাও দেখা যায়। যে কারণে তারা যখন আক্রান্ত হচ্ছেন, তখন তারা বড় রকমের ঝুঁকিতে পড়ছেন। এ কারণেই অন্যান্য দেশে যেভাবে প্রবীণরা যেভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন, বাংলাদেশে তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। এদেশে মধ্যবয়সীরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ মনে করেন যে, আমাদের যখন ৪০ পেরিয়ে যাবে, তখনই আমাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অর্থাৎ হেলথ চেক আপের আওতায় আসা উচিৎ। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমরা যত পরিশ্রমই করি না কেন, আমরা যদি সুস্থ না থাকি তাহলে এই পরিশ্রম বৃথা যাবে। এজন্য ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সী যারা কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। সুস্থ থাকার জন্য তাদের নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। ধূমপান পরিহার করতে হবে। মাদকাসক্তি থাকলে সেটি বাদ দিতে হবে। তাদের মনে রাখতে হবে যে, এখন তাদের শরীরে এ ধরনের অসংক্রামক ব্যাধির বাসা বাধার সময়। এ সময় তাদের সতর্ক থাকতে হবে। এই সতর্কতা যদি তারা অবলম্বন করে তাহলে করোনা ঝুঁকি থেকেও তারা মুক্ত হতে পারবে। তবে শুধু মধ্যবিত্ত না, সকল মানুষকেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, মাস্ক পড়তে হবে এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। তাহলেই আমরা নিজেরা যেমন করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারবো, তেমনি আমাদের পরিবারকেও সুরক্ষিত রাখতে পারবো।