ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শেভরনে করোনা টেস্ট এত কেন পজিটিভ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২০ মঙ্গলবার, ০১:০৪ পিএম
শেভরনে করোনা টেস্ট এত কেন পজিটিভ!

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস পরীক্ষার চারটি ল্যাবে যেখানে করোনা ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হচ্ছে মোট নমুনার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত, সেখানে বেসরকারি ল্যাব শেভরনে নিয়মিতভাবেই ৫০ শতাংশের বেশি ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হতে দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে অনুসন্ধানকালে বেশ কয়েকজন ল্যাব বিশেষজ্ঞ বলেছেন, করোনা পরীক্ষায় পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় শেভরনের টেস্টে কিছু সমস্যা থেকে যাচ্ছে। তবে তারা এও বলছেন, দিন যতোই গড়াবে, শেভরনও অন্যদের মতো সমস্যাগুলো শুধরে নিতে পারবে। তবে শেভরন কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের ব্যবহৃত কিটের সেনসিটিভিটি বেশি হওয়ায় করোনা পজিটিভ শনাক্তের হারও বেশি হচ্ছে।

চট্টগ্রামে সরকারি ও বেসরকারি মোট পাঁচটি ল্যাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা হচ্ছে। ল্যাব পাঁচটি হলো বিআইটিআইডি, সিভাসু, চট্টগ্রাম মেডিকেল, ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ও শেভরন ল্যাব। এর মধ্যে প্রথম চারটি ল্যাবই ব্যবহার করছে চাইনিজ কিট। কিন্তু শুধু চট্টগ্রামের বেসরকারি ল্যাব শেভরনে ব্যবহার করা হচ্ছে তুলনামূলক সস্তা কোরিয়ান কিট। শেভরন কর্তৃপক্ষের দাবি, অন্য কিটগুলোর সেনসিটিভিটি যেখানে ৭০ শতাংশ, সেখানে কোরিয়ান কিটের সেনসিটিভিটি ৯০ শতাংশ। আর এই কারণেই শেভরন ল্যাবে করোনা পজিটিভ শনাক্তের হার বেশি।

কিন্তু কতোটা বেশি-চট্টগ্রাম প্রতিদিনের উদ্যোগে ২৮ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত ৫ দিনের করোনা টেস্টের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এই পাঁচ দিনে চট্টগ্রামের বিআইটিআইডি ল্যাবে সর্বনিম্ন ৭ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ২৮ জুন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ২১ শতাংশ, ২৯ জুন ১৮ শতাংশ, ৩ জুন ২৭ শতাংশ, ১ জুলাই ২৬ শতাংশ, ২ জুলাই ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে আরেক বেসরকারি ল্যাব শেভরনে ২৮ ও ২৯ জুন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ৫০ শতাংশ, ৩০ জুন ৫৩ শতাংশ, ১ জুন ৩১ শতাংশ, ২ জুলাই ৫৯ শতাংশ।

অন্য ল্যাবগুলোর তুলনায় শেভরনে এত বেশি সংখ্যক পজিটিভ শনাক্ত হওয়া নিয়ে রীতিমত প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। এর মধ্যে একই ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষায় শেভরনের সাথে অন্য ল্যাবের ভিন্ন ফলাফল পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে অন্তত দুই দফায়। প্রথমে রায়হান সোবহান নামে এক প্রকৌশলীর ২৫ জুন দেওয়া নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ আসে শেভরনে। ৩০ জুন ওই ব্যক্তি ইম্পেরিয়ালে নমুনা দিলে সে পরীক্ষায় আসে নেগেটিভ। দ্বিতীয় দফায় অন্য এক রোগীর একই দিন (৫ জুন) শেভরন ও চমেক ল্যাব থেকে ভিন্ন ফলাফল পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এক্ষেত্রে ১ জুলাই চমেকে দেওয়া নমুনায় নেগেটিভ এলেও ৩ জুলাই শেভরনে দেওয়া নমুনায় এসেছে যথারীতি ‘পজিটিভ’!