ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যে কারণে ধরা ছোঁয়ার বাইরে জেকেজি’র সাবরিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২০ শনিবার, ০১:১৭ পিএম
যে কারণে ধরা ছোঁয়ার বাইরে জেকেজি’র সাবরিনা

বাংলাদেশে করোনা টেস্ট ছাড়াই রেজাল্ট দিয়ে দেওয়ার যে প্রতারণা, এটা শুরু করেছিল জেকেজি হেলথকেয়ার। তাদের এই অপকর্ম প্রকাশ্যে আসার পর পেরিয়ে গেছে কয়েক সপ্তাহ। কিন্তু এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে আছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে রেজিস্টার চিকিৎসক হিসেবে চাকরিরত তিনি। আইনশৃংখলা বাহিনী জেকেজি হেলথ-কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং সাবরিনার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীসহ এই প্রতিষ্ঠানের বেশকিছু কর্মীকে গ্রেপ্তার করলেও ডা. সাবরিনাকে স্পর্শ করতে পারছে না কেউ।

জানা যায় যে, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) এক প্রভাবশালী নেতার বান্ধবী হওয়ার কারণেই তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। ওই প্রভাবশালী চিকিৎসক শুধু স্বাচিপের নেতা নন, তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) যুগ্ম মহাসচিবও বটে। তার  সঙ্গে সাবরিনার অনৈতিক সম্পর্কের কথা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে একটা ‘ওপেন সিক্রেট’। এই প্রভাবশালী চিকিৎসক নেতার কারণেই সাবরিনাকে কেউ স্পর্শ করতে পারছে না বলে জানা গেছে। অথচ জেকেজি কেলেংকারির জন্য আরিফুল হক চৌধুরী যেমন দায়ী, তেমনি সাবরিনাও দায়ী। কারণ সাবরিনা জেকেজির চেয়ারম্যান। তার প্রভাবের কারণেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জেকেজিকে করোনার নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেয়। এই পরীক্ষার জন্য জেকেজির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক কোটি ৬৫ লাখ টাকার বিলও জমা দেওয়া হয়। অথচ তারা লোকজনের কাছ থেকেও পরীক্ষার জন্য টাকা নিয়েছে। এই সাবরিনার কারণেই জেকেজি সব জায়গায় দাপট দেখাতো। রাজধানীর তিতুমীর কলে্জে করোনা টেস্টের ক্যাম্প বসায় জেকেজি। সেখানে যখন জেকেজির কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সমস্যা হয়, তখন সাবরিনাই সেখানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ভাঙিয়েছিলেন। একের পর এক দুর্নীতি অনিয়মের পরও এই সাবরিনা প্রকাশ্যে ঘুরে বেরিয়েছে। অথচ তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

সাবরিনার অপরাধ হলো, প্রথমত; সরকারি চাকরি করেও তিনি জেকেজির মতো প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন। দ্বিতীয়ত; এই প্রতিষ্ঠনের মাধ্যমেই অবৈধ এবং ভুয়া করোনার রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত; এই ভুয়া করোনা পরীক্ষার বিল পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রভাব খাটিয়ে চাপ প্রয়োগ করেছে।

এত এত অপকর্ম করেও আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠনের এক নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে এখনও বহাল তবিয়তে দিন কাটাচ্ছেন সাবরিনা। তার স্বামী জেকেজির সিইও আরিফ চৌধুরীসহ ৬ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। কিন্তু সাবরিনার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া যাচ্ছে না।