ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সাবরিনার জালিয়াতির আরো নথিপত্র পুলিশের হাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৩:৪৯ পিএম
সাবরিনার জালিয়াতির আরো নথিপত্র পুলিশের হাতে

জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা শারমিন হুসাইন করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতিতে আলোচিত জেকেজি হেলথকেয়ারের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকার দাবি করলেও তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে মাসে মাসে বেতন নিতেন বলে ‘প্রমাণ’ পেয়েছে পুলিশ।

সূত্র বলছে, এরকম কয়েকটি বেতনের স্লিপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রয়েছে।

সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেকেজির চেয়্যারম্যান হয়ে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ভঙ্গ করায় ইতোমধ্যে সাবরিনাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সাবরিনা এবং তার স্বামী জেকেজি হেলথ কেয়ারের সিইও আরিফুল হক চৌধুরী বর্তমানে মামলাটি তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজেতে রয়েছেন।

বুধবার রাতে ডিবি কার্যালয়ে তাদের মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার গোলাম মোস্তফা রাসেল জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমে তিনি বলেন, “গতরাতে তাদের একবার মুখোমুখি করা হয়েছে, যাতে তদন্তে কোনো ফাঁকফোকর না থাকে।”

জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কী পাওয়া গেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চিরাচরিত যা হয়, একে অপরকে দোষ দেওয়া. এখানেও তাই হয়েছে। তবে সেখান থেকে ক্লু নিয়ে কাজ করতে হবে এবং আমরা তাই করছি।”

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব নিয়েছিল ওভাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার- সংক্ষেপে জেকেজি।

কিন্তু জুনের শেষ দিকে অভিযোগ আসে, সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে বুকিং বিডি ও হেলথকেয়ার নামে দুটি সাইটের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছিল জেকেজি। নমুনা পরীক্ষা না করে রোগীদের ভুয়া সনদও তারা দিচ্ছিল।

জেকেজি নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে ডা. সাবরিনার কথাই বলা হত। তবে দুর্নীতির খবর প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি দাবি করেন, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত দুই মাস ধরে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত ১২ জুলাই ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জালিয়াতির ওই মামলায় সাবরিনাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

আর সাবরিনার স্বামী আরিফুলকে বুধবার দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ডে নেওযার আবেদন আদালত মঞ্জুর করে।

তাদের মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, “তারা পরস্পরকে তুই-তুকারি করছিলেন, একজন অপরজনের জীবন ধ্বংসের জন্য দায়ী করছিলেন।

“সাবরিনা তার স্বামীকে বলছিলেন, ‘সবকিছু করে এখন আমাকে ফাঁসিয়েছিস।’ আরিফুল কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলেন, ‘তুমিতো চেয়ারম্যান, তোমার কি দায় নেই?’ আরিফুল এ সময় মোটামুটি শান্ত থাকলেও সাবরিনাকে অস্থির দেখাচ্ছিল।”

গোয়েন্দা পুলিশের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, জেকেজির অফিস থেকে জব্দ করা ডেস্কটপে দুই হাজারের বেশি কোভিড পরীক্ষার জাল রিপোর্ট পাওয়া গেছে।

“জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজন নিজেদের জেকেজির আহ্বায়ক দাবি করছেন। আহ্বায়ক বলে কোনো পদ তাদের নেই, কিন্তু বারবার জিজ্ঞাসা করলেও তারা ভিন্ন কিছু বলেননি।”

একজন কর্মকর্তা বলেন, “সাবরিনা অস্বীকার করলেও বেতনের স্লিপ পুলিশ পেয়েছে, সেখানে দেখা গেছে, জেকেজির চেয়ারম্যান হিসেবে সাবরিনা প্রতি মাসে ত্রিশ হাজার টাকা করে নিতেন। এটাও তাদের একটা কৌশল ছিলো। চেয়ারম্যান কম টাকা নেয় দেখাতো অন্য কর্মচারীদের। আসলে সব লভ্যাংশ তারাই ভোগ করতেন। 

আরিফুলকে জুনের ২৩ তারিখ গ্রেপ্তার করার পর তার স্ত্রী সাবরিনাকে গ্রেপ্তার করা হয় ১২ জুলাই। এই সময়ে সাবরিনা নিজেদের ‘কৃতকর্মের অনেক তথ্য প্রমাণ’ সরিয়ে ফেলে থাকতে পারেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

আজ সাবরিনার রিমান্ড শেষ হচ্ছে। শুক্রবার তাকে আবার আদালতে তুলে রিমান্ড চাওয়া হবে। তবে আবার কতদিন রিমান্ড চাওয়া হবে তা এখনও ঠিক করা হয়নি।