ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

করোনায় অযৌক্তিক ভীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৭:০১ পিএম
করোনায় অযৌক্তিক ভীতি

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ভয়াবহতার একটি তুলনামূলক ধারণা পেতে বাংলাদেশের সাথে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত আমেরিকা, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও ব্রাজিল এবং প্রায় সমহারে আক্রান্ত ভারতের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা যতটা আতঙ্কগ্রস্থ, বাস্তবচিত্র তার চেয়ে অনেক কম ভীতিকর। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় বাংলাদেশে সংক্রমণও বেশি। তবে, শনাক্তের তুলনায় আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, নানা অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার কারণে মূলত বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা প্রদান ব্যাহত হওয়ায় কোভিড, নন-কোভিড উভয় ধরনের রোগীই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। ফলে কোনো কোনো রোগী ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা না পেয়ে হয়তো খুব সামান্য কারণেই মারা যাচ্ছেন, যা মানুষের মাঝে ব্যাপক ভীতি ছড়িয়েছে। তবে, মহামারীর ভয়াবহতা পরিমাপের ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় মৃত্যুর পরিসংখ্যানের দিক থেকে আমরা এখনো পর্যন্ত অত্যন্ত কম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছি।

তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংক্রমণের হার ও পরিমাণ জানতে টেস্ট বাড়ানোর বিকল্প নাই। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও কন্টাক্ট ট্রেসিং না হওয়ায় আমরা এখন সংক্রমণের ঠিক কোন স্তরে আছি তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তেমনি জনসংখ্যার কত ভাগ মানুষ ইতোমধ্যে সংক্রমিত হয়েছে বা হার্ড ইমিউনিটিতে পৌঁছাতে আর কতদিন লাগতে পারে তাও সুনির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

অনেকে কোনো প্রকার উপসর্গ ছাড়াই করোনাভাইরাস পজিটিভ হচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগেরই কোনো প্রকার উপসর্গ থাকে না। বাকি ২০ ভাগের মধ্যে ১৫ ভাগের ক্ষেত্রে খুব সামান্য উপসর্গ দেখা দেয়। আর বাকি মাত্র ৫ ভাগের ক্ষেত্রে উপসর্গ প্রকটভাবে দেখা দেয়। পরিলক্ষিত হয়েছে যে, এই ৫ ভাগের অনেকেই উপসর্গ দেখা দেয়ার পরও প্রথম দিকে এটিকে যথাযথ গুরুত্ব দেননি। পরবর্তিতে অবস্থা যখন সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছে যায় তখন হাসপাতালে ছুটছেন। অথচ, প্রথম থেকেই যথাযথ চিকিৎসা এবং ঘরোয়া পদ্ধতি গ্রহণ করলে হয়তো তাদের মধ্যে অনেকে বাড়িতেই সুস্থ হয়ে যেতেন।

যেহেতু মহামারী আর কতদিন চলবে তা বলা যাচ্ছে না, তাই করোনাভাইরাস নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে না থেকে চলমান সংকট থেকে কাটিয়ে ওঠার জন্য আমাদের ভাবা দরকার। তার জন্য সর্বপ্রথম করোনাভাইরাস নিয়ে আমাদের অযৌক্তিক ভীতি দূর করতে হবে। একইসঙ্গে যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সে লক্ষ্যে জনগণকে এ ভাইরাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয়া ও করণীয় সম্পর্কে জানানোর মাধ্যমে তাদের ভীতি দূর করা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সকল রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা প্রদান, হাসপাতালগুলোতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং চলমান মহামারী কার্যকরভাবে মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা সবচেয়ে জরুরি। এর জন্য প্রয়োজন আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস।

করোনাভাইরাসের কোনো চিকিৎসা বা প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি। তবে, আপনার শরীরের সুস্থতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও প্রয়োজনীয় সচেতনতাই আপনাকে করোনার ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে যথেষ্ট। তাই লকডাউন থাকুক আর নাই থাকুক, করোনার প্রভাব পুরোপুরি কেটে না যাওয়া পর্যন্ত আমাদের সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কারণ, করোনাভাইরাস সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত কোনো কথাই শেষ কথা নয়।