ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

অপারেশন ফরিদপুর: শেখ হাসিনার কঠিন বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২০ শুক্রবার, ০৮:২৮ পিএম
অপারেশন ফরিদপুর: শেখ হাসিনার কঠিন বার্তা

ফরিদপুরে ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের রাজত্বের অবসান হয়েছে। একের পর এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে ফরিদপুরের রাজনীতি থেকে প্রায় বিতাড়িত হতে চলেছেন ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন আওয়ামী লীগের সাবেক একজন মন্ত্রী বা একজন এমপি কিংবা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য- শুধু এই পরিচয়টা যদি থাকতো তাহলে এনিয়ে এতটা আলোচনা হতো না। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রধানমন্ত্রীর আত্নীয়ও বটে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই। আর এ কারণেই তিনি ফরিদপুরে তাঁর আধিপত্য এবং রাজত্ব কায়েমের সুযোগ পেয়েছিলেন বলেই অনেকে মনে করেন। তিনি একটি প্যারালাল আওয়ামী লীগ গঠন করেছিলেন, যারা অধিকাংশই বিএনপি বা জামাত থেকে অনুপ্রবেশ করেছে। এমন অভিযোগ নিয়ে কানাঘুষা থাকলেও এনিয়ে কোন প্রতিবাদ হয়নি। 

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপারেশন ফরিদপুরের মাধ্যমে সুস্পষ্ট বার্তা জানান দিলেন। ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার নাজমুল ইসলাম ওরফে লেভিকে আজ গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ফরিদপুরে চাঞ্চল্যকর  দুই হাজার কোটি টাকা মানি লন্ডারিং মামলায় দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত এবং ইমতিয়াজ হোসেন ওরফে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গত কয়েকদিনে স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা সকলেই সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। এটিকে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, অপারেশন ফরিদপুর। দীর্ঘদিন ধরেই ফরিদপুরে প্রকৃত ত্যাগি, পরীক্ষিত আওয়ামী লীগাররা কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। দলে অনুপ্রবেশকারীরাই আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ব দখল করে ছিলো। শেখ হাসিনার নির্দেশেই ফরিদপুরে অপারেশন পরিচালিত হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। আর এই অপারেশনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা স্পষ্ট একটি বার্তা দিয়েছেন তা হলো, সবার আগে সংগঠন, সবার আগে রাজনীতি। আত্নীয় হলেই যা খুশি তাই করবে এমন লাইসেন্স তিনি কাউকে দেননি। যদি কেউ দলের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে বা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অপরাধ করে তারা যার পৃষ্টপোষকতাতেই থাকুক না কেন, তিনি যেই হোন না কেন, অপরাধী হলে তার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যে শুন্য সহিষ্ণু সেটা আবার প্রমাণ করলেন। 

মূলত ফরিদপুর অপারেশনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে একটা স্পষ্ট বার্তা দিলেন। আওয়ামী লীগের মধ্যে সাহেদ বা পাপিয়ার মতো যারা অপকর্ম করছে, যারা বরকত বা রুবেলের মতো অনুপ্রবেশ করে আওয়ামী লীগের বদনাম করছে, তারা যার পৃষ্টপোষকতাতেই থাকুক না কেন, সেখানে শেখ হাসিনা শুদ্ধি অভিযান করবেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেবেন।

এতদিন শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজ বা আওয়ামী লীগের অপরাধীদের ধরে যেমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এখন তিনি তার নিজের আত্নীয়দের পৃষ্টপোষকতায় যারা লালিত পালিত হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেখালেন যে, দুর্নীতিবাজ- অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে তিনি কোন ছাড় দিতে রাজি নন।