ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

করোনা খেয়েছে ঈদ ছুটির আনন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০২০ মঙ্গলবার, ০৭:৫৪ এএম
করোনা খেয়েছে ঈদ ছুটির আনন্দ

প্রাণঘাতী করোনা সংকটের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হল পবিত্র ঈদুল আযহা। মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব এটি। কিন্তু অন্যান্যবারের চেয়ে এবারের ঈদ যেন একটু ব্যতিক্রম। তিনদিনের ছুটি শেষে সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে অফিস আদালত। করোনা না থাকলে কোরবানির ঈদে এমন অল্প ছুটি হয়তো অনেকেই মেনে নিতো না। অতিরিক্ত ছুটি যোগ করে নিতো কেউ কেউ। কিন্তু এবার করোনার কারণে তা সম্ভব হয়নি। স্বল্প সময়ের কথা চিন্তা করে অনেকেই কর্মক্ষেত্র ত্যাগ করেননি। অবশ্য এমন নির্দেশও ছিল। সেইসাথে ছুটির মজাও যেন খেয়ে ফেলেছে করোনায়।

নেই স্বস্তি

অন্যান্য সময় ঈদের ছুটি মানেই যেন বাড়ি ছুটে যাওয়ার হিড়িক। আত্মীয় স্বজনের বাড়ি বেড়াতে যাওয়া। বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া। ঈদের ছুটির এই সময়ে অনেকেই ছুটে যেতেন রাঙামাটি, কক্সবাজার, বান্দরবানসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। অবশ্য এবার হাওর দেখতে তরুণদের কিশোরগঞ্জের নিকলি বা মিঠামইনে যেতে দেখা গেছে। এসবের বাইরে ঈদের ছুটিটা ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেন এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু এবার ঈদের ছুটিতে যেন স্বস্তি নেই। নেই ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেবার মানসিকতা। সবাই যেন কাজ করেই সময়টা কাটাতে চায়। করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই যেন ছুটিতে সবাই। ফলে শরীর যেন অনেকটাই অবসাদগ্রস্ত।

বাড়ি যাওয়ার হিড়িক

ঈদ মানেই বাড়ি ছুটে যাওয়া। ঈদের দুই-তিন আগ থেকেই এমনটা দেখা যায়। ছুটি শেষ হওয়ার আগে আবার ঢাকা ফেরার হিড়িক দেখা যায়। ঈদের আগে ও পরে রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল থেকে শুরু সদরঘাট সবখানেই এমন চিত্র দেখা যায়। কিন্তু এবারের ঈদ এই দিক থেকে অনেকটাই ব্যতিক্রম। অন্যসব ঈদের মতো এবার বাড়ি ছুটার হিড়িক নেই। নাড়ীর টান যেন এবার নেই বললেই চলে। কিন্তু অন্য সময় গণ পরিবহনে থাকত উপচে পড়া ভিড়। তল্পিতল্পা গুছিয়ে গৃহকাতরতায় আকুল হয়ে ছুটে যেত সবাই।

অসন্তোষ নেই

ঈদ আসলে সকল চাকরিজীবীদেরই দীর্ঘ ছুটির প্রয়োজন হতো। সরকারি কিংবা বেসরকারি সবারই যেন ছুটি চাই। কিন্তু এবারের কোরবানির ঈদের ছুটি নিয়েও কোন অসন্তুস নেই। করোনাকালীন এই কোরবানির ঈদে ছুটি ছিল মাত্র তিনদিন। অবশ্য এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটিও রয়েছে। কিন্তু কাউকেই ছুটি নিয়ে অসন্তুস প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। দেখা যায়নি আরও বেশি ছুটি প্রয়োজন এই দাবি করতে। কারণ করোনার এই সময়ে চাকরিটা যেমন বাঁচিয়ে রাখা দরকার। আবার করোনা প্রাদুর্ভাব থেকে বাঁচতেও থাকতে হবে ঘরবন্দী। ফলে সব মিলিয়েই যেন এই রকম অবস্থা। সেইসাথে অনেকেই আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। এবার পশু কোরবানির ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা গেছে। ফলে কোরবানি না দিতে পারার দরুনও অনেকে বাড়ি যায়নি।