ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

প্রদীপের গডফাদার বদি!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০২০ শনিবার, ১২:৪৩ পিএম
প্রদীপের গডফাদার বদি!

বেরিয়ে এলো টেকনাফের সদ্যসাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের গডফাদারের নাম। বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রদীপের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতা ছিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মাদক সম্রাট আব্দুর রহমান বদি। কক্সবাজারে মাদকের বিরুদ্ধে যত অভিযান চালিয়েছে পুলিশ সেখানে বদিকে স্পর্শই করা হয়নি। চার মাস আগেও বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রদীপকে টেকনাফ থেকে বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। তখন এই বদলি ঠেকাতে বদির স্ত্রী বর্তমান সংসদ সদস্য শাহীন আক্তার চৌধুরী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এসপির কাছে ডিও লেটার দিয়েছিলেন। বদির ক্যাডার হিসেবেই প্রদীপ ছিল সবকিছুর উর্ধ্বে।

স্থানীয়রা জানান, প্রদীপ পুলিশের ওসি ছিল না, সে ছিল বদির ওসি। একাধিকবার বদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তাকে সাময়িক বরখাস্তের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল। কিন্তু বদির তেজে তাকে কেউ কিছুই করতে পারেনি।

গত কয়েক বছর ধরেই বদির বিভিন্ন দুর্নইটি অনিয়ম প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। কিন্তু তার বদলে মনোনয়ন পান তার স্ত্রী শাহীন আক্তার শাহীন আক্তার চৌধুরী। ত্নি নির্বাচনে জয়ীও হন। কিন্তু কাগজে কলমেই শুধু তিনি এমপি। সমস্ত কিছু চলে বদির নির্দেশে। স্থানীয়রা জানান, বদির হুকুম ছাড়া কক্সবাজারে গাছের পাতাও নড়ে না। গত ২ বছরে বদির অন্যতম ক্যাডার হয়ে ওঠেন প্রদীপ।

উল্লেখ্য যে, গত ৩১ অগাস্ট রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ওসি প্রদীপের নির্দেশেই এই হত্যা বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তাকে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন একের পর এক বেরিয়ে আসছে তার সমস্ত কুকীর্তি।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে প্রদীপ কুমার দাশের যোগদানের পর থেকেই টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়ক আতঙ্কের ‘ক্রসফায়ারের’ নিরাপদ জোনে পরিণত হয়। দুই বছরে এ সড়কে ক্রসফায়ারে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। মাদক নির্মূলের নামে ক্রসফায়ারে মানুষ হত্যা করা ছিল প্রদীপের নিত্যদিনের কাজ। এই উন্মাদনা থেকে বাঁচতে পারেননি মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানও।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২২ মাসে প্রদীপের নির্দেশে টেকনাফে ১৪৪টি ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২০৪ জন মারা গেছেন। তাদের অর্ধেকের বেশি লাশ পড়েছিল মেরিন ড্রাইভে। যারা মারা গেছেন তাদের পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। যাকে ক্রসফায়ার করা হতো তাকে ১০ থেকে ১২ দিন থানা হাজতে রাখা হতো। আবার মাসের পর মাস থানা হাজতে রাখার ঘটনাও রয়েছে। এ সময় ক্রসফায়ারে না দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করে নিত প্রদীপ। তবে শেষ সম্বলটুকু দিয়েও বাঁচতে পারেনি অনেকেই।

জানা গেছে, বদির ব্যবসায়িক অংশীদার আবু সৈয়দ ও তার ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সঙ্গেও প্রদীপের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বদির নেতৃত্বে প্রদীপ ও কয়েকজন ইয়াবা সম্রাট মিলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। গত কয়েক বছরে ইয়াবা চোরাচালানের নামে অনেককেই ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগ ছিল এই বদি সিন্ডিকেটের প্রতিপক্ষ। বদির বিরুদ্ধে যাওয়ার অভিযোগে বহুজনকেই ইয়াবা চোরাচালানের তকমা লাগিয়ে হত্যা করেছে প্রদীপ।