ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

করোনা নিয়ে স্বস্তিতে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২০ মঙ্গলবার, ০৬:০০ পিএম
করোনা নিয়ে স্বস্তিতে সরকার

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে, আড়াই লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, সাড়ে তিন হাজারের মতো মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। তারপরেও করোনা নিয়ে সরকারের মাঝে স্বস্তি দেখা দিচ্ছে, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কেটে গেছে। করোনা সংক্রমণের শুরুতে সরকারের মধ্যে যে ধরণের অস্থিরতা ছিল, সেই ধরণের অস্তিরতা এখন আর নেই। বরং সরকার করোনার থেকে বন্যা মোকাবেলা, অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে ওঠা, খাদ্যের ফলন বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছে। আগস্ট মাস থেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে সবকিছু। স্কুল-কলেজ এবং বড় ধরণের সভা-সমাবেশ ছাড়া সব ধরণের কার্যক্রম বাংলাদেশে শুরু হয়েছে, যদিও করোনা সংক্রমণ এখনো বাংলাদেশে থামেনি। কিন্তু সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যৎবাণী ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং করোনার সঙ্গে বসবাসের যে কৌশল প্রধানমন্ত্রী দিয়েছিলেন সে কৌশল সফল হয়েছে। আর এই বাস্তবতায় সরকার করোনা নিয়ে এখন উদ্বিগ্ন নয়, আতঙ্কিত নয়। বরং করোনা পরবর্তী বিশ্বে প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্যে পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। করোনা নিয়ে বাংলাদেশের স্বস্তির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-

বাংলাদেশে মৃত্যুহার কম

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের পর থেকে বিশেষজ্ঞরা বলছিল যে, সংক্রমণ বাড়লেই মৃত্যুহার বাড়বে এবং মৃত্যুর মিছিল হবে বাংলাদেশে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, বিশ্বের সবথেকে বেশি করোনা সংক্রমিত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে মৃত্যুর হার সবথেকে কম এবং যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাঁদের সবার ভেতরে অন্যান্য উপসর্গ ছিল। মৃত্যুর হার কম থাকার কারণে মানুষ করোনা নিয়ে প্রথমদিকে যে ভীত এবং আতঙ্কিত ছিল তা এখন কাটতে শুরু করেছে। এখন মানুষ করোনাকে আর অন্য দশটা রোগের মতো ধারণা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে।

হাসপাতালের উপর নির্ভরশীলতা কম

বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের একটি বড় অংশই উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গের। তাছাড়া নানা বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশের মানুষ এখন করোনায় আক্রান্ত হলে হাসপাতালে যাচ্ছে না। প্রথমদিকে হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ ছিল এবং এটা নিয়ে সরকারের মধ্যে একটি উদ্বেগ ছিল যে, যদি রোগী বাড়ে তাহলে হাসপাতালে জায়গা দেওয়া যাবে না। ইউরোপ-আমেরিকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। এজন্য সরকার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল যাই পেয়েছিল, সেটাকেই করোনার জন্যে বিশেষায়িত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে, তত দেখা গেছে যে, মানুষ আর হাসপাতাল মুখী নয়, বরং হাসপাতালের চেয়ে মানুষ বাড়িতে চিকিৎসা নিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। এর কারণ যাই হোক না কেন, হাসপাতালের উপর চাপের হ্রাস সরকারের জন্যে এক বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে সরকারের জন্যে যেমন ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে, তেমনি জনআতঙ্ক কমে গেছে।

করোনার সঙ্গে বসবাসের কৌশল

সরকার শুরু থেকেই করোনা মোকাবেলায় লকডাউনের থেকে করোনার সঙ্গে বসবাস, অর্থাৎ মাস্ক ব্যবহার করা, সামাজিক দুরত্ব মেনে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মানা ইত্যাদি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিচ্ছিল এবং আস্তে আস্তে এটাতে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে এবং সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো সরকারের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে এখন আরো কঠোরতা আরোপ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, মাস্ক বাধ্যতামূলক করার জন্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কথাও আলোচনা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে মানুষ সচেতন হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং করোনার সঙ্গে বসবাসের যে কৌশল, সেই কৌশল বাস্তবায়িত হবে বলে মনে করছে সরকার।

গরীব মানুষরা আক্রান্ত কম

বাংলাদেশে যেকোনভাবেই হোক না কেন, করোনা সংক্রমণের হার গরীবদের মধ্যে অনেক কম। এটা ছিল সরকারের অন্যতম উদ্বেগ এবং আতঙ্কের দিক যে, যদি গরীব মানুষদের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে সেক্ষেত্রে তাঁদের চিকিৎসার ভার সরকারের উপর বর্তাবে এবং এই চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করা গরীব মানুষদের জন্যে কঠিন হয়ে পড়বে-এরকম একটি উৎকণ্ঠা হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতি হয়নি।

ভ্যাকসিনমুখী উদ্যোগ

সরকারের স্বস্তির একটি বড় কারণ হলো যে, বিশ্বে যে ভ্যাকসিন উৎপাদন প্রক্রিয়াগুলো হচ্ছে, সেই প্রক্রিয়াগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হলেও বাংলাদেশ যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, ভ্যাকসিন এলেই বাংলাদেশ তা পাবে এবং এটার কারণে বাংলাদেশ সরকারের ভেতর অস্বস্তি ভাব কমে যাচ্ছে। কারণ এখন ভ্যাকসিনই করোনা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ তা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত হয়েছে।