ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ১৫ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০১৭ রবিবার, ০৫:১৫ পিএম
বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ১৫ জনের যাবজ্জীবন

পুরান ঢাকার দর্জি দোকানের কর্মচারী বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। অপর ১৫ জনের যাবজ্জীবন এবং ৪ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেছে।

আজ (৬ আগস্ট) রায় ঘোষণার জন্য গত ১৭ জুলাই তারিখ ধার্য করেছিল আদালত।

এদিকে রায়ের অপেক্ষায় থাকা বিশ্বজিৎ -এর বাবা রায় ঘোষণার আগে বলেছিলেন, ২১ জনের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালত যে, রায় দিয়েছে তা যেন বহাল থাকে। এবং রায় কার্যকর করার ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ২১ জন কর্মীর মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয় নিম্ন আদালতে। বাকি ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেয় আদালত। মৃতুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন, সাইফুল ইসলাম, কাইয়ুম মিঞা টিপু, রাজন তালুকদার এবং মীর মো. নূরে আলম লিমন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- এ এইচ এম কিবরিয়া, ইউনুস আলী, তারিক বিন জোহর তমাল, গোলাম মোস্তফা, আলাউদ্দিন, ওবায়দুর কাদের তাহসিন, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল-আমিন, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, মোশাররফ হোসেন ও কামরুল হাসান। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

গত ২০১৩ সালের ১৮ই ডিসেম্বর, বুধবার দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক এ বি এম নিজামুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

বিচারিক আদালতের ওই রায়ের এক সপ্তাহের মধ্যে মামলার ডেথরেফারেন্স হাইকোর্টে পৌঁছে। এর পর ১৫টি আপিল করেন দণ্ডপ্রাপ্তরা।

গত ১৬ মে থেকে মোট ১৫ দিনের মতো এ মামলায় আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয়েছে হাইকোর্টে।

২৩ মে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। গত ১৯ শে ফেব্রুয়ারি পেপার বুক প্রস্তুত হয়ে হাই কোর্টে আসে। পেপারবুক উপস্থাপনের পর গত ২৬ শে ফেব্রুয়ারি ডেথরেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারন করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্‌হা। পরে শুনানি শুরু হয়।

উল্লেখ্য বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর। ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রলীগ ক্যাডাররা নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন দর্জি বিশ্বজিৎ দাসকে। শাঁখারী বাজারে বিশ্বজিৎ-এর দর্জির দোকান ছিল। তিনি থাকতেন লক্ষ্মীবাজার এলাকায়। তাঁর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর।

বাংলা ইনসাইডার/এসএ