ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আতঙ্ক নয়, ছয় লাখ টন পেঁয়াজ মজুদ আছে, আসছে আরো

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার, ০৯:২৫ পিএম
আতঙ্ক নয়, ছয় লাখ টন পেঁয়াজ মজুদ আছে, আসছে আরো

ভারতে ইলিশের প্রথম চালান যাওয়ার দিনেই পূর্ব ঘোষণা ছাড়া বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলো দেশটি। এ ঘোষণায় কিছুটা সমস্যা হলেও গতবারের মতো খারাপ পরিস্থিতি হবে না বলে মনে করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।  বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টন পেয়াজ মজুদ আছে। তারপরও ক্রেতাদের আতঙ্কের সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে বেশ আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় তুরস্ক থেকে চলতি মাস শেষেই আসছে পেঁয়াজ। এমনকি পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকায় বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি।

এর আগে গত বছরও ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে হু হু করে। সেসময় বাড়তে বাড়তে ৩০০ টাকায় ঠেকেছিল দাম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। তবে এদিন বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হয়েছে ১২ মেট্রিক টন। পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করায় বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোলে আটকা পড়েছে পেঁয়াজভর্তি প্রায় ১৫০টি ট্রাক। একই অবস্থা অন্যান্য স্থলবন্দরেও।  তবে আজ ভারতের শুল্ক বিভাগ আটকে থাকা পেঁয়াজ বাংলাদেশে রপ্তানি করতে অনুমতি দিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পেঁয়াজের দাম দ্রুত কমাতে জরুরি ভিত্তিতে তুরস্ক থেকে এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জিটুজি বৈঠকের পর মিয়ানমার থেকে ফের পেঁয়াজ আমদানি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে এই পেঁয়াজ জাহাজে করে দেশে আনবেন বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরা। এছাড়া পেঁয়াজ আমদানির ওপর আরোপিত পাঁচ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআরকে) চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ভারত বন্ধ করে দেওয়ায় একটু সমস্যাতো হবে। আমরা বিকল্প মার্কেট হিসেবে অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা করে ফেলেছি। তারা আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা তুরস্ক, চীন, মিয়ানমার, মিশর থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য যোগাযোগ করেছি।  

তিনি বলেন, তুরস্ক থেকে আগামী চার পাঁচ মাসের মধ্যে টিসিবির মাধ্যমে এক লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। এছাড়া টিসিবি ন্যায্য মূল্যে ট্রাক সেল শুরু করে দিয়েছে। আমাদের কাছেও পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আছে। তুরস্ক থেকে কিছু কিছু আসা শুরু হয়েছে। এই মাস শেষে তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ চলে আসবে। ধাপে ধাপে ১০ দিন পর পর তিন চার হাজার টন করে আসবে।