ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দ্বিতীয় নোবেলের জন্য মরিয়া ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ শুক্রবার, ০৯:০১ পিএম
দ্বিতীয় নোবেলের জন্য মরিয়া ড. ইউনূস

 

২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মোহাম্মদ ইউনূস। এই নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যে, দেন-দরবার ও তদবির করেছিলেন, সে ব্যাপারে তিনি কোন রাখঢাক করেননি। হিলারি ক্লিনটন এবং বিল ক্লিনটন দু’জনেই ড. মোহাম্মদ ইউনূস যাতে নোবেল পুরষ্কার পান- সে ব্যাপারে সুইডিশ একাডেমিকে তদবির করেছিলেন। বিল ক্লিনটন অন্তত দুটি সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস যাতে নোবেল পুরষ্কার পায়, এই ব্যাপারে তিনি সুইডিশ একাডেমির কাছে অনুরোধ করেছিলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত, সুইডিশ একাডেমি তাকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরষ্কার দিতে পারেনি, কিন্তু তাকে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য। যদিও এই নোবেল পুরস্কারটি যৌথভাবে দেওয়া হয়েছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংক কে। কিন্তু ২০০৬ এর শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার কৃতিত্ব মুহাম্মদ ইউনূস একাই পকেটে পুরেছেন। তবে পুরষ্কারের ব্যাপারে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আলাদা আগ্রহ রয়েছে। পুরষ্কার প্রাপ্তির জন্য একজন মানুষকে যা যা করতে হয়, তার সব কিছুই তিনি করেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পুরষ্কারের পাল্লাটাও বেশ ভারী। ১৯৯৪ সালে তিনি ‘র‍্যামন ম্যাগসাসে’ এ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন, ১৯৮৭ সালে তিনি ‘ইন্ডিপেন্ডেস ডে এ্যাওয়ার্ড’ পান, ১৯৮৯ সালে তিনি ‘আগা খান এ্যাওয়ার্ড’ এ ভূষিত হন, ১৯৯৪ সালে তিনি ‘ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ’ পান। ওই বছরই তিনি ‘প্রফেট শান্তি পুরষ্কার’ পান। ২০০০ সালে তিনি ‘গান্ধী শান্তি পুরষ্কার’ পান, ২০০৩ সালে তিনি পান পরিবেশ পদক।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তিনি দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পদক পেয়েছিলেন একটি হল ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’, যেটি তিনি ২০০৯ সালে পেয়েছেন। এর পরেরটা ছিল ‘কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল’ পদকে ভূষিত হয়েছেন। এসব কিছুর পরেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি অতৃপ্তি রয়েছে, তিনি এখন ইউনুস সেন্টারের মাধ্যমে সামাজিক ব্যবসা বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই সামাজিক ব্যবসায় যাতে নোবেল পুরষ্কার পান। সেজন্য এবার বেশ আটঘাট বেঁধে নেমেছেন, বলে খবর পাওয়া গেছে।
এমনকি বিভিন্ন দেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল পুরস্কার পাওয়ার জন্য লবিং করছেন। সামাজিক ব্যবসার যে অর্থনৈতিক নীতি-কৌশল, এটার জন্য যেন তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান; সে ব্যাপারে তিনি চেষ্টা করছেন, বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে, যখন তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়; সেই সময় তাকে অব্যাহতি দেয়া হলে, তিনি সেই অব্যাহতি আদেশ চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। সর্ব্বোচ আদালত তার অব্যাহতিকে বৈধ বলার পর, সরকারের সঙ্গে তার এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন ফোরামে তিনি সরকারের নীতি-কৌশলের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখছেন, বলেও জানা গেছে। সেই সমস্ত বক্তব্য গুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালেও প্রকাশিত হয়েছে। এরপর থেকে সামাজিক ব্যবসার যে উদ্যোগ ও কর্মসূচি সেটির দিকে তিনি মনোযোগ দিয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি সামাজিক ব্যবসা কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য, বিবৃতি দেন। সামাজিক ব্যবসাকে তিনি জনপ্রিয় করার জন্য বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ঘুরছেন। সামাজিক ব্যবসা মডেলকে অর্থনীতির একটি মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই তার এত দৌড়ঝাপ। আর এর ওপর ভিত্তি করে, তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়ার চেষ্টা করছেন, বলে একাধিক সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষ করে, গত বছরই তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য চেষ্টা করেছিলেন। নোবেল পুরস্কার তিনি পাবেন, এ রকম একটি নিশ্চিত ধারণা তার অনেক সুহৃদকে বলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার স্ত্রী অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর, এবার তিনি আটঘাট বেঁধেই নেমেছেন। এ কারণে করোনার মধ্যেও দেখা যাচ্ছে তিনি সামাজিক ব্যবসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভার্চুয়াল সেমিনার এবং আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।

ড. মুহম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দরিদ্র্যতা জাদুঘরে যাবে, কিন্তু বিশ্বে দারিদ্র বেড়েছে। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নিয়ে সারা বিশ্বেই প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই সামাজিক ব্যবসা মডেল অর্থনীতিতে তাকে নোবেল এনে দেয় কিনা- সেটাই এখন দেখার বিষয়।