ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মাহবুবে আলম: আইন পেশায় একজন সৎ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ রবিবার, ০৮:৩৩ পিএম
মাহবুবে আলম: আইন পেশায় একজন সৎ মানুষ

 

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই। আজ সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মাহবুবে আলম একজন আইনজীবী ছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন, এটি তার একমাত্র পরিচয় নয়। তিনি একজন সৎ এবং সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি ছিলেন। সেইসাথে একজন সাহসি মানুষ ছিলেন।

২০০৮ সালে অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার আগে আইন পেশায় তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছিলেন। আইন পেশায় যেখানে ছল-চাতুরি এবং নানা রকম অসততার কথা শোনা যায়, সেখানে মাহবুবে আলম ছিলেন অদ্ভুত এক ব্যতিক্রমী মানুষ। সততা, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতা দিয়ে তিনি আইন পেশাকে মহিমান্বিত করেছিলেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তাকে হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই প্রস্তাবে তিনি সাড়া দেননি। কারণ তার যে, জীবন-যাপন এবং সৎ ভাবে জীবন-যাপন করতে গেলে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তা একজন বিচারকের নেই। ফলে তিনি বিচারক হিসেবে যোগ দেননি।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলে মাহবুবে আলমকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার হাত ধরেই দেশে যুদ্ধাপরাধী সহ অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এই সমস্ত মামলায় তার ভুমিকা ছিল অনবদ্য এবং ঐতিহাসিক। আর এই কারণেই তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সাড়া জীবন সুপ্রিম কোর্টে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময়ের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কিন্তু কখনোই তিনি কন বিতর্কের জন্ম দেননি। বিচারপতি সিনহাকে নিয়ে যখন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, তখন তিনি সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য যে ভারসাম্যমূলক ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন সেজন্য সুপ্রিম কোর্টের সকলের কাছেই তিনি শ্রদ্ধাভাজন। পেশার প্রতি তার মর্যাদা ও দায়িত্ববোধের কারণে তিনি আইন পেশায় অভিভাবকের মর্যাদায় আসীন হয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। সেইসাথে সৎ এই আইনজীবীর মৃত্যুতে আইন পেশায় একটি শুন্যতা তৈরি হল।