ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কারাগারে আয়েশে দিন কাটাচ্ছেন ওসি প্রদীপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার, ০২:০২ পিএম
কারাগারে আয়েশে দিন কাটাচ্ছেন ওসি প্রদীপ

 

ডিভিশন সুবিধা নিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আরামে আয়েশে দিন যাপন করছেন মেজর সিনহা হত্যা মামলার আসামি টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। যার বিরুদ্ধ রয়েছে কক্সবাজারের অনেক নিরাপদ মানুষকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় শুনানির জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন প্রদীপ।

দুদকের পিপি কাজী সানোয়ার আহমেদ লাভলু জানান, সাবেক ওসি প্রদীপ দাশের সঙ্গে কোনো আইনজীবী ও আত্মীয়স্বজনদের দেখা করা বন্ধ রাখতে চিঠি পাঠায় কারা কর্তৃপকক্ষ। করোনার কারণে অন্য সময় যেভাবে সাক্ষাৎ করার নিয়ম ছিল, তা আর হচ্ছে না। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ওই চিঠি আদালতে উপস্থাপন করা হলে মহানগর দায়রা জজ আদালত কারাবিধি অনুসরণ করে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আদেশ দেন।  চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত ওসি প্রদীপের সাথে তার আত্মীয়স্বজন এবং আইনজীবী কাউকে দেখা করতে নিষেধ করে আদেশ জারি করেন।

আইনজীবী লাভলু বলেন, পুলিশ থেকে বহিষ্কৃত প্রদীপ কক্সবাজার কারাগারে থাকা অবস্থায় ডিভিশন নিশ্চিত করেছিলেন। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তিনি চট্টগ্রাম কারাগারে ডিভিশন পাচ্ছেন।

টেকনাফ থানায় ওসি পদে দায়িত্ব পালনকালে চাঁদার দাবিতে অনেক ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যার অভিযোগ রয়েছে প্রদীপের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কয়েকটি থানায় প্রদীপের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলাও দায়ের হয়েছে।

দুদকের দায়ের করা মামলায় শুনানির জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রদীপ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। গত ২৩ আগস্ট সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যা মামলায় আটক ও বরখাস্ত হওয়া টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং তার স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে প্রায় চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছিল দুদক।

এর মধ্যে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকা ওসি প্রদীপ ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন বলে দুদক অভিযোগ এনেছে। আরো ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য বিবরণীতে গোপন করার অভিযোগও আনা হয়েছে চুমকির বিরুদ্ধে।

২০ সেপ্টেম্বর আদালতে দুদকের আইনজীবীরা স্ত্রীর নামে স্থানান্তর করা প্রদীপের সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন করলে সেই আবেদন গ্রহণ করে তার স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দেন। সম্পদ ক্রোকের আবেদনে উল্লেখ করা হয় চুমকি অবৈধ সম্পদ হস্তান্তর করার চেষ্টা করছেন।

প্রদীপ ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করে স্ত্রীর নামে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করেছেন বলেও দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন এবং এজাহারে বলা হয়েছে। দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। ঘটনাস্থল বিবেচনায় মামলাটি করা হয়েছে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১ এ। মামলা নম্বর ১১।