ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

চ্যানেল আই: ২২ বছরে অর্জন নাকি বিনাশ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৪:৫৯ পিএম
চ্যানেল আই: ২২ বছরে অর্জন নাকি বিনাশ?

 

২১ বছর পেরিয়ে ২২ শে পা রাখলো বাংলাদেশর প্রথম প্রজন্মের টেলিভিশন, চ্যানেল চ্যানেল আই। এই সময় নাটক, রিয়েলিটি শো, চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার ইত্যাদি নানা বিষয়ে আলোচিত। কিন্তু চ্যানেল আই গত ২১ বছরে দেশের সংস্কৃতি, শিল্প কিংবা মুক্ত বুদ্ধির চর্চার জন্য কি করেছে, তার নির্মোহ বিশ্লেষণ জরুরী। এই চ্যানেলকে ঘিরে চ্যানেল আইয়ের নানা মুখী ব্যবসার ডালপালা মেলেছে।

মন্ত্রী, এমপি সহ রাষ্ট্রের প্রভাবশালীদের বশীকরণ মন্ত্রের বীণ বাজিয়েছে চ্যনেল আই। ফলে অনৈতিক সুবিধা যেমন নিয়েছে দেদারছে, তেমনি নিজেরাও পার পেয়েছেন নানা অনিয়ম করেও। শিল্প এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সৃষ্টি নয়, বরং বিনাশই যেন ২১ বছরের চ্যানেলটির সব থেকে বড় অর্জন। নানা ভাবে এ দেশের নাটক, সিনেমা এবং সংস্কৃতিকে ধ্বংসের অভিযোগে অভিযুক্ত এই চ্যানেলটি।

প্রয়াত কথা শিল্পী হুমায়ূন আহমেদ যেমন খাবার স্যালাইনের ফর্মুলা বাতলে দিয়েছিলেন সহজ ভাষায়- এক গ্লাস পানি, এক চিমটি লবন আর এক মুঠো গুড় গুটিয়ে খাবার স্যালাইন তৈরি হয়। তেমনি ফরিদুর রেজা সাগরের নিজস্ব লোকদের কিছু গান, অনুষ্ঠান, শাইখ সিরাজের একক প্রচারণা, মুকিত বাবুর প্রকৃতি ভাবনা আর কেকা ফেরদৌসীর রান্নার কিছু আয়োজন নিয়েই চ্যানেল আই।

‘হৃদয় বাংলাদেশ’ ধারণ করে এই চ্যানেলটি প্রথম বিদেশি সিরিয়াল বাংলাদেশে আমদানি শুরু করে। বাংলাদেশে এর মাধ্যমেই ‘নাটক’ ধ্বংসের সূচনা হয়। নাটক বানানোর বাজেট কমাতে কমাতে এই প্রতিষ্ঠানটি নাটকের নির্মাণ ব্যয় ‘জিরো’ ফিগারে নামিয়ে এনেছে। প্রডাকশন বয়, লাইটম্যানকে নাটকের পরিচালক বানিয়ে এই চ্যানেলটি, সৃষ্টিশীল এবং ভালো নাটক নির্মাণকে অসম্ভব বানিয়ে দিয়েছে।

সিনেমার বাজেটকেও কমাতে কমাতে এরা নাটক এবং সিনেমার পার্থক্য মুছে দিয়েছে। সিনেমাকে টিভি প্রিমিয়ার এর নামে নাটকের স্তরে নামিয়ে এনেছে এই চ্যানেলটি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের দুর্ভাগ্যের জন্য এই চ্যানেল কতটা অবদান রেখেছে, তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা হতে পারে। শিল্প ও সংস্কৃতির এই সর্বনাশের পাশাপাশি, আরো সর্বনাশের গল্প অন্ধকারেই রয়ে গেছে।

নৃত্য শিল্পী ইভান আদম পাচারের অভিযোগে কারাগারে। আর শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা ফারুককে বিদেশে নেয়ার অভিযোগ থেকে কি নিখুত ভাবে পার পেয়ে যায়, এই চ্যানেলটি। ফারজানা ব্রাউনিয়া কার পাপে চ্যানেল আই ছাড়েন, সে গল্পেরও টুটি চিপে ধরা হয়। সংবাদ পাঠিকারা কেন, কোন দুঃখে কিংবা আতঙ্কে চ্যানেল ছেড়ে হাফ ছেড়ে বাঁচেন সে গল্পেও আগ্রহ নেই কারো। জন্মদিন আর জানাজা করে চ্যানেলটি গৃহপালিত সংস্কৃতি কর্মীদের স্বঘোষিত অভিভাবক হয়ে গেছে। আর এই বিনাশের খেলায় চলচ্চিত্র পুরষ্কার, একুশে পদক আর স্বাধীনতা পদকেও বিতর্কিত করে ছেড়েছে চ্যানেল আই।