ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বেগম জিয়ার ‘জয়‘ মিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার, ০৮:০০ পিএম
বেগম জিয়ার ‘জয়‘ মিশন

এপ্রিল, ২০১২। আগামী নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির রুদ্ধদ্বার বৈঠক। বেগম জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত চার্টার অ্যাকাউনটেন্ট সাংবাদিক শফিক রেহমান, আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা নেতা মাহমুদ উল্লাহ মামুন। বৈঠকে শফিক রেহমান আগামী নির্বাচনে বিএনপির কৌশলপত্র তুলে ধরেন। কৌশলপত্রের নানা বিষয়ের মধ্যে একটি ছিল ‘প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ইমেজ নষ্ট করা।’

শফিক রেহমানের বক্তব্য ছিল, ‘আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে এবং সাফল্যের সঙ্গে তারেকের চরিত্র হনন করেছে। আমাদের জয়ের চরিত্র হনন করতে হবে।’ কৌশলের অন্য সবকিছু ছাপিয়ে জয় প্রসঙ্গেই আটকে যান বেগম জিয়া। অনেকদিন পর তাঁর মুখে হাসির রেখা দেখা যায়। বেগম জিয়া কথা বলেন কম। শুধু বললেন, ‘ইলেকশনের বাকি কাজ পরে, আগে জয়কে শেষ করো। যতো টাকা লাগে দেবো।’

ব্যস শুরু হলো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। বিএনপি নেতা মামুন জানালেন, এফবিআইতে তাঁর সোর্স আছে, টাকা দিলে তাঁরা জয়ের সব ইনফরমেশন দেবে। শফিক রেহমান জানালেন, লন্ডন থেকে তিনি টাকা পাঠাবেন। মামুন দুদিন পরেই চলে গেলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এক সপ্তাহ পর মামুন জানালেন, তাঁর ছেলে রিজভী আহমেদ সিজার এফবিআইতে সোর্স ঠিক করেছে, সোর্সের নাম রবার্ট লাস্টিক। ৪০ হাজার ডলারের বিনিময়ে সে জয় সম্পর্কে তথ্য দেবে। শফিক রেহমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন। রিজভী রবার্ট বৈঠক হলো। প্রথম কিস্তির অগ্রিম টাকা দেওয়া হলো রবার্টকে। দুদিন পর রবার্ট জয়ের গাড়ির বিবরণ, বাড়ির বিস্তারিত নক্সা দিলো রিজভীকে। রিজভী এসব তথ্যে আগ্রহী নন। তিনি চান জয়ের টাকার উৎস। বরার্ট একটু বিরক্তই হলো, বলল, তুমি তো জানো, এখানে অবৈধ টাকা রাখা, আনা প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া, জয় ও তাঁর স্ত্রী এখানে ভালো কাজ করে। রিজভী খবর জানাল শফিক রেহমানকে। বাড়ি, গাড়ির ব্যাপারে শফিক রেহমান খুবই আগ্রহী। রিজভী একটু অবাক। এর কিছুদিনের মধ্যেই শফিক রেহমান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরেক গ্রুপকে ঠিক করল, যাঁরা পেশাদার অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত। জয়ের বাসার নক্সা গাড়ির বিস্তারিত দিলো তাঁদের। জয় কখন একা কোথায় যায়, তার খোঁজ খবরও রাখতে বলল। রিজভী ফোন করে বরার্টের কাছে তথ্য চায়। রবার্ট তাঁকে বলে এমন তথ্য নেই যা তুমি চাচ্ছো। এফবিআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স এসব ফোনালাপ রেকর্ড করে। এক ভোরে এফবিআই রবার্টকে গ্রেপ্তার করে। রবার্টের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয় রিজভীকে। ফেডারেল কোর্টে দণ্ডিত হয় রিজভী। তথ্য লাভে ব্যর্থ হয়ে মরিয়া হয়ে ওঠেন বেগম জিয়া। শফিক রেহমানকে জানিয়ে দেন কিছু না পারলে, শেষ করে দাও। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শফিক রেহমান কাজ শুরু করেন। কিন্তু এবার ধরা পড়েন বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের হাতে। তাঁর ল্যাপটপে পাওয়া যায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যক্তিগত অনেক তথ্য। শফিক রেহমানের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটে বেগম জিয়ার ‘জয়’ মিশনের।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ 

বিষয়: রাজনীতি