ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিচারপতি সিনহাকে রাষ্ট্রপতি চায় বিএনপি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার, ০৭:৫৯ পিএম
বিচারপতি সিনহাকে রাষ্ট্রপতি চায় বিএনপি?

অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে। বিএনপি সহায়ক সরকারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নাম প্রস্তাব করবে। এই প্রস্তাব সমর্থন করবে, নাগরিক ঐক্য, গণফোরাম সহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৩ এপ্রিল। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে এই পদে থাকতে পারেন। তাই আওয়ামী লীগ চাইলেই দেশের ২২ তম রাষ্ট্রপতি আরও পাঁচ বছর এই পদে থাকতে পারেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি পদে একজন ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ’ ব্যক্তিকে নিয়োগের মাধ্যমেই সহায়ক সরকারের দাবি অর্জিত হতে পারে বলে বিএনপি মনে করছে। এতে এক ঢিলে অনেক পাখি মারা হবে।

বিচারপতি সিনহা আগামী ৩১ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিবেন। বিএনপির একাধিক নেতা, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে ‘ঐক্যমতের রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে মনে করছেন। সম্প্রতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছিলেন ৯০ এর আদলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা যেতে পারে। ৯০ এর আদল তখন স্পষ্ট না করলেও এখন স্পষ্ট হচ্ছে।

ষোড়শ সংশোধনী রায়ের পর আওয়ামী লীগ এবং প্রধান বিচারপতি মুখোমুখি অবস্থানে। আওয়ামী লীগ এই রায়ের প্রকাশ্য সমালোচনা করছে। দু একজন মন্ত্রী প্রধান বিচারপতির পদত্যাগও দাবি করেছে। বিএনপি মনে করছে, এ অবস্থায় বিচারপতি সিনহাকে দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি করা হলে নির্বাচন নিয়ে সংকটের অনেকটাই সমাধান হবে। নতুন এই রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভাকে অকার্যকর রেখে রাষ্ট্রপতি রুটিন কাজ করবেন। যদিও বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী একমাত্র প্রধান বিচারপতি নিয়োগ এবং প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ব্যাতীত সব কাজই রাষ্ট্রপতি করবেন প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত সুপারিশ ছাড়া রাষ্ট্রপতি সংসদও ভেঙ্গে দিতে পারেন না। তবুও বিএনপি মনে করছে একজন নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপতি থাকলে নির্বাচনকালীন সময়ে একটা চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স থাকবে। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি সমস্ত বাহিনীর প্রধানও।

নির্বাচনকালীন সময়ে বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রয়োগের অনেক সুযোগ আছে বলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মনে করছেন। তাঁদের মতে, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের মধ্য দিয়ে একটি জাতীয় ইমেজ তৈরি করেছেন। আওয়ামী লীগের এ ব্যাপারে আপত্তির সুযোগ খুবই কম। কারণ, আওয়ামী লীগই তাঁকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছে। আর রাষ্ট্রপতি হলে, আওয়ামী লীগের অতীত আচরণের কারণে তিনি নিরপেক্ষ থাকবেন।

আওয়ামী লীগ আগে থেকেই বলে এসেছে, আগামী নির্বাচন হবে সংবিধানের আলোকে, বর্তমান সরকারই নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে। তবে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগকে নতুন রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ২৩ এপ্রিল ২০১৮ আব্দুল হামিদের প্রথম টার্ম শেষ হবে। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এখনো রাষ্ট্রপতি নিয়ে আওয়ামী লীদের মধ্যে সিরিয়াস ভাবনা-চিন্তা হয়নি। তবে, সৈয়দ আশরাফকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। আবার অনেকেই, আবদুল হামিদকেই আরেক টার্ম রাষ্ট্রপতি রাখার পক্ষে। তবে, নতুন রাষ্ট্রপতি হলেও তা যে বর্তমান প্রধান বিচারপতি হবেন না, তা নিশ্চিত করেছে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র। যেই রাষ্ট্রপতি হোক, নির্বাচনের আগে এ নিয়ে যে মাঠ গরম হচ্ছে শিগগিরই তা নিশ্চিত।  

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ