ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আত্মপ্রচারণায় শোক দিবস

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০১৭ রবিবার, ১১:০৯ এএম
আত্মপ্রচারণায় শোক দিবস

রাজধানীর খামারবাড়ি মোড়। শোক দিবস উপলক্ষে টানানো হয়েছে বিশাল ব্যানার। আওয়ামী লীগের এক স্থানীয় নেতার পক্ষ থেকে টানানো ওই ব্যানারে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। তাঁর কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবিও আছে। তবে ব্যানারের বড় অংশজুড়ে আছে প্রচারণাকারী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার ছবি। শোক দিবসের ব্যানারে যা বড্ড বেমানান।

রাজধানীতে সারাবছরই বিভিন্ন প্রচার-প্রচারনায় ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড,পোস্টার ইত্যাদি দেখা যায়। আগস্ট মাস শোকের মাস হওয়ায় এই মাসে আরও বেশি করে এগুলো চোখে পড়ে। এবারও রাজধানীর অলি-গলি,দোকান, দেয়াল,গাছ ইত্যাদি সবস্থানই ভরে গেছে বিলবোর্ড, ব্যানারও পোস্টারে। ১৫ই আগস্টকে কেন্দ্র করে এসব প্রচারণার অনেকাংশেই দেখা যায় বঙ্গবন্ধুর চেয়ে যে নেতা এই প্রচার চালাচ্ছেন তারই জায়গা অধিকাংশ জুড়ে। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে এসব প্রচারণা কি শোকের মাসকে ঘিরে না নেতাদের ব্যক্তিগত প্রচারণা?

১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির অবিরত অশ্রু ঝরার দিন। এদিন বাঙালি জাতিসহ সারাবিশ্ব অবিসংবাদিত নেতা ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়। অথচ এই বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতার মধ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর নামে আত্মপ্রচারণা চালানোর প্রকোপ দেখা যায়। এই বছরেও তা বিদ্যমান রয়েছে।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আগস্ট মাসে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কারও ছবি পোস্টার ফেস্টুনে ব্যবহারে বিশেষ নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মীরা। রাজধানীসহ সারা দেশে বড় বড় বিল বোর্ড, পোস্টার আর ফেস্টুনে অনেক ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি এক কোণায় ছোট পরিসরে স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে বিজ্ঞাপনের বাকি অংশ জুড়েই রয়েছে সুবিধাবাদী নেতাদের ছবি, নাম ও পদবি। এমনকি আত্মপ্রচারের এই সুযোগ হাতছাড়া করেননি কর্মীরাও।

রাজধানীর নিউমার্কেট,বাংলামোটর,কারওয়ানবাজার,ফার্মগেটসহ সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরলেই দেখা যায় ১৫ আগস্টের শত শত ব্যানার,ফেস্টুন। কিন্তু এই ব্যানার,ফেস্টুনগুলো এমনভাবে স্থান পেয়েছে যে কে শহীদ আর কে জীবিত, অনেক ক্ষেত্রে তা বোঝা কষ্টকর। এ জাতীয় আত্মপ্রচারণার `শ্রদ্ধাঞ্জলি` ঝুলতে দেখা যাচ্ছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি চত্বর, সরকারি অফিসের আশপাশ, এমনকি পাড়া-মহল্লার রাস্তায়ও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক নেতাই এসময় নিজের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ক্যাম্পাসের দেয়ালে দেয়ালে ব্যানার, ফেসটুন টানিয়েছেন। বিভিন্ন হলেও এই প্রতিযোগিতা পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু এগুলোতে শুধুমাত্র দুই কোনায় বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি দেয়া বাকি অংশ জুড়ে নেতাদের নিজস্ব ছবি। সেগুণ বাগিচায় শোকের মাস হিসেবে এক কাউন্সিলর বড় একটি বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। কিন্তু যাদের জন্য এই শোকের মাস তাদের ছবিতে খুঁজে পাওয়াও কষ্ট হবে।

আত্মপ্রচারণার এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও। এসব অখ্যাত নেতা-কর্মীরা শোক দিবসের পোস্টার ছাপানোর নামে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন। স্থানীয় রাজনীতি, নেতা-কর্মীদের স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারের কথা বিবেচনা করে তারা অনেকটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ব্যাপারে আবার কাউকে অভিযোগ বা প্রতিবাদও করতে পারছেন না তারা।

জাতীয় শোক দিবস সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা নিজেদের ব্যক্তি প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ দিবসের তাৎপর্য, দলীয় অঙ্গীকার, ভিশন ইত্যাদি কোনো কিছুই স্থান পাচ্ছে না কর্মসূচিতে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ১৫ আগস্টের শোকাবহ ঘটনার ভাবগাম্ভীর্যও রক্ষা করা হচ্ছে না। তাই বঙ্গবন্ধুর চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে নেতাকর্মীদের উচিৎ অন্তত এই মাসে তাঁদের আত্মপ্রচারণা না চালানো।


বাংলা ইনসাইডার/এসএম/জেডএ