ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সারাদেশে আওয়ামী লীগের প্রতীক ‘ফরিদপুর’?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২০ শনিবার, ০৫:০০ পিএম
সারাদেশে আওয়ামী লীগের প্রতীক ‘ফরিদপুর’?

ফরিদপুরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একজন এমপির দ্বন্দ্ব এখন আলোচনার শীর্ষে। এনিয়ে সারাদেশে তোলপাড় চলছে। প্রথমে বিষয়টিকে মনে করা হয়েছিল, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দ্বন্দ্ব। কিন্তু সময় যতোই গড়াচ্ছে ততোই এই ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ দৃশ্যমান হচ্ছে। এটি নিছক একটি নির্বাচনী দ্বন্দ্ব নয় বরং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রশাসনকে ব্যবহারের একটি প্রতীক।

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা কাজী জাফর উল্লাহ। তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য। আওয়ামী লীগ সভাপতির বিশ্বস্ত এবং ঘনিষ্ঠ হিসেবও তার পরিচিতি আছে। অন্যদিকে, ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের কেউ নন। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আত্মীয়। তারা ঐতিহ্যগতভাবেই আওয়ামী পরিবারের সন্তান।

নিক্সন চৌধুরীর বাড়ী মাদারীপুর হলেও, তিনি ফরিদপুর-৪ আসনে নির্বাচন করছেন, গত দুই মেয়াদে। নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের হেভীওয়েট প্রার্থী কাজী জাফর উল্ল্যাহকে হারিয়ে দেন পরপর দুবার। কাজী জাফর উল্লাহর আওয়ামী লীগের ভরা মৌসুমে পরাজয়, রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এটা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকেই হুমকির মুখে ফেলেছে। আর এজন্য তার আসন পুনরুদ্ধারে তিনি সব সময়ই মরিয়া।

চরভদ্রাসনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তিনিই আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন দেন। কিন্তু জয়ী হবার জন্য ঐ প্রার্থী নিক্সন শিবিরে যোগদেন। এটাই জাফর উল্লাহকে ক্ষুদ্ধ করে। ঐ নির্বাচনে ‘বিশ্বাসঘাতক’কে হারাতে তিনি সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেন। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, এসময় কাজী জাফরউল্লাহর পক্ষাবলম্বন শুরু করেন। প্রশাসনের সেখানে যেভাবে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করার কথা ছিলো, তা করেনি এমন অভিযোগ এসেছে স্থানীয় পর্যায়ে থেকে। প্রশাসনের পক্ষপাতের কারণেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলে মনে করেন স্থানীয় জনগণ। এরপর নিক্সন চৌধুরীর ক্ষোভকে নিয়ে মাঠ প্রশাসন যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তাতেও রাজনৈতিক ইন্ধ আছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

ফরিদপুরের এই ঘটনা সারাদেশে আওয়ামী লীগের প্রতীক চিত্র বলেই মনে করছেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রশাসনের অতিরাজনীতিকরণের জন্য, বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে প্রশাসন এক পক্ষ হয়ে পরছেন। মাঠ প্রশাসনে অধিকাংশ স্থানেই প্রশাসন তার নিরপেক্ষতা হারিয়ে রাজনৈতিক পোষাক ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তারা এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে পরছেন। রাজনৈতিক বিরোধ, প্রশাসনিক মদদে বিস্তৃত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন ‘প্রশাসরে কারণে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব বড় হচ্ছে। তা মেটানো কঠিন হয়ে পরছে। ফরিদপুর তার একটি উদাহরণ মাত্র।