ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তিন দেশের আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দুতে বঙ্গোপসাগর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২০ শনিবার, ১০:০০ পিএম
তিন দেশের আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দুতে বঙ্গোপসাগর

বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক অনেক ভালো। নানা টানাপোড়নের পরেও সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামী বাংলাদেশে এসে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এবং তিনি বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলছেন।

এরমধ্যে মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বিগান বাংলাদেশ ঘুরে গেলেন। আপাত দৃষ্টিতে তিনটি দেশই বলছে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অংশীদার হতে চায়। বাংলাদেশের কূটনৈতিক যে নীতি সেটা হলো ‘সকলের সঙ্গে মিত্রতা কারো সঙ্গে শক্রতা নয়’ সেই নীতিতে বাংলাদেশ সকলের সঙ্গে সু সর্ম্পক রাখছে। কিন্তু কূটনৈতিক মহল মনে করছে বড় বড় তিনটি ক্ষমতাবান দেশের বাংলাদেশ নিয়ে হঠাৎ আগ্রহ নিছক অর্থনৈতিক সর্ম্পক নয় বা নিছক বাংলাদেশের প্রতি সহমর্মিতা বা ভালবাসা নয়। এই আগ্রহের একটি সুনিদিষ্ট কারণ আছে।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত কারণে বঙ্গোপসাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরের ওপর নির্ভর করবে এই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সামরিক এবং ভূ রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অনেকখানি। আর সেই কারণেই বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ এই বঙ্গোপসাগর নিয়ে তিন দেশেরই আগ্রহ রয়েছে। বর্তমান সরকার গত একযুগে বঙ্গোপসাগরের অনেকখানি দৃশ্যমান অগ্রগতি করেছে।

প্রথমত মিয়ানমার এবং ভারতের সঙ্গে সমুন্দ্রসীমা নিয়ে যে বিরোধ ছিলো সেই বিরোধ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে মীমাংসা করেছে। কাজেই বাংলাদেশ সমুন্দ্রসীমায় নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। দ্বিতীয়ত বাংলাদেশ ব্লু ইকোনমির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের প্রভূত উন্নতি করেছে। তৃতীয়ত বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে সামরিক শক্তি জোরদার করেছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে দুটি সাবমেরিন কিনেছে। সামরিক দিক থেকে বঙ্গোপসাগরকে সুরক্ষা করার জন্য কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে।

তিনটি দেশই মনে করছে বাংলাদেশের ভূখন্ডের বঙ্গোপসাগরে যদি তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করা যায় তাহলে পরে এই অঞ্চলের রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য সহজ হবে। এখানে চীনের আগ্রহ অনেকদিন থেকেই। যদিও চীন বলছে অর্থনৈতিক কূটনীতি তাদের মূল লক্ষ্য কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে বঙ্গোপসাগর নিয়ে তারা অনেক আগ্রহী। বঙ্গোপসাগরকে নিয়ে একাধিক প্রস্তাব-পরিকল্পনা তারা বাংলাদেশ সরকারকে দিয়েছে। সেখানে গভীর সমুন্দ্র বন্দর নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে তারা আর্থিক সহায়তা দিতে চায়।

এটি ভারতের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতও বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে বিনিয়োগ এবং কাজ করতে আগ্রহী।  বিশেষ করে বাংলাদেশের নৌ শক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। আর মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিগানের সফরে পষ্ট হয়েছে তারা বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায়। এবং বঙ্গোপসাগরে যে অগ্রগতি উন্নয়ন সেই অগ্রগতি উন্নয়নে অংশীদার হতে চায়। এই কৌশলগত কারণে বাংলাদেশ তিনটি দেশের কাছে অতন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ ও আদরের একটা রাষ্ট্রতে পরিণত হয়েছে।

এখানে মূল বিষয়টা হলো কূটনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে যে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক এবং বাংলাদেশের অখন্ড অংশ। বাংলাদেশ এখানে অন্য কোন রাষ্ট্রকে সামরিক মহড়া বা অন্য কোন সামরিক স্থাপনা করার সুযোগ দেবে না। তবে বঙ্গোপসাগরের উন্নয়ন, গভীর সমুন্দ্রবন্দর নির্মাণসহ বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে একটি বড় অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারসাম্যের কূটনীতি অনুসরণ করবে এবং সব দেশের থেকে বাংলাদেশ হয়তো সহযোগিতা নেবে।

বাংলাদেশ তার নিজস্ব সার্বভৌমত্ব এবং নিজস্ব কূটনীতির বাইরে কোন কিছু করবে না। এখন দেখার বিষয় এই তিনটি দেশের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে কিভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে।