ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ফরিদপুরের হেভীওয়েট নেতারা নীরব কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২০ রবিবার, ০৪:৫৯ পিএম
ফরিদপুরের হেভীওয়েট নেতারা নীরব কেন?

গত কয়েকমাস ধরেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম আলোচনার বিষয় ফরিদপুর। প্রথমে সেখানে শুদ্ধি অভিযান আলোচনায় আসে। শহরের প্রভাবশালী এবং দাপুটে নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সেই ধারায় ছাত্রলীগ যুবলীগের শহর শাখার নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তার হন। এদের বিরুদ্ধে এখন দুই হাজার কোটি টাকার মানিলন্ডারিং এর মামলা তদন্তাধীন। ফরিদপুরে এই শুদ্ধি অভিযানে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তারা সবাই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক সাবেক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তৃতীয় মেয়াদে তিনি মন্ত্রীত্ব পাননি। মন্ত্রীত্ব না পেলেও এলাকায় তার বিপুল প্রভাব ছিলো। ফরিদপুরের রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি মনে করা হতো তাকে।

কিন্তু  ফরিদপুরের শুদ্ধি অভিযানের পর ঐ নেতা আর এলাকামূখী নন। নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিয়েছেন। শুদ্ধি অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন শুরু হয়ছে, নতুন সংকট। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এখন প্রশাসন বনাম জনপ্রতিনিধির লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপির যে দ্বন্দ্ব সেটি আসলে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর এই দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য স্বতন্ত্র এমপি নিক্সন চৌধুরী। মজার ব্যাপার হলো, ফরিদপুরে এই দুই ঘটনাতেই স্থানীয় অন্যান্য এমপি এবং প্রভাবশালী নেতারা ভূমিকাহীন।

ফরিদপুরে নির্বাচনী এলাকা ৪টি। ফরিদপুর-১ আসনের এমপি, সাবেক সচিব মনজুর হোসেন। তিনি রাজনীতিতে খুব একটা পরিচিত মূখ নন। সাবেক আমলা হিসেবেই তিনি এলাকায় পরিচিত। স্থানীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব এবং ভূমিকা দুটোই কম। ফরিদপুর-২ আসনের এমপি, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এক সময় ফরিদপুরের রাজনীতিতে তিনিই আওয়ামী লীগের প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু বার্ধক্য জনিত কারণে এখন এলাকার রাজনীতিতে তিনি খুব একটা নাক গলান না। এই দুই ঘটনায়, তার কোন পক্ষ-বিপক্ষ অবস্থান জানা যায় না। ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেন। কিন্তু শুদ্ধি অভিযানের পর তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। আর ফরিদপুরের ৪ আসনের এমপি মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী। সংসদ সদস্যের বাইরে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামে আরো দুজন নেতা রয়েছেন যারা ফরিদপুরের। এরা হলেন কাজী জাফর উল্ল্যাহ এবং আবদুর রহমান। জাফর উল্লাহ এখানে একটি পক্ষ। ফরিদপুর-৪ আসনের কর্তৃত্বের জন্য তিনি নিরন্তর নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে লড়াই করছেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমানকেও ফরিদপুর নিয়ে ঘটনাপ্রবাহে মৌনব্রত দেখা যাচ্ছে। এতো হেভীওয়েট নেতা, টালামাটাল ফরিদপুর নিয়ে কেন দর্শক, সেটিও এক বড় প্রশ্ন বটে।