ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

লড়াইটা জমিয়ে তুলেছেন তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২০ রবিবার, ০৯:০০ পিএম
লড়াইটা জমিয়ে তুলেছেন তাপস

ঢাকা নিয়ে ঢাকাবাসীর অন্তহীন দু:খ। এই শহরটা ক্রমশ: বাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। আবর্জনার স্তুপ। যানজট নিরসন নেবার উপায় নেই। বুড়িগঙ্গা দূষনে মুমর্ষ প্রায়। তার যেন এক মৃত্যুফাঁদ। একটু বেশী হলেও জলবদ্ধতা। তবুও জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে এই শহরেই আকড়ে থাকে মানুষ। উপায়হীন, অসহায় আর্তনাদ আর নি:শব্দ দীর্ঘশ্বাসে চলে তারে যাপিত জীবন। ঢাকাকে তিলোত্তমা করতে, বাসযোগ্য করতে কথার ফুলঝুরি কম হয়নি। ৯৪ সালে ঢাকাকে বাঁচাতে, নির্বাচিত নগর পিতার কাছে দায়িত্ব তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে মোহাম্মদ হানিফ শুধু তার অসহায়ত্বের কথাই বলেন। 

তার নগর সরকারের ধারনা গৃহিত হয়নি। এরপর আসেন সাদেক হোসেন খোকা। তিনি আবিস্কার করেন, সিটি কর্পোরেশন আসলে টাকার খনি। নাগরিক সেবা দেয়া চুলোও যাক। এরপর কাজের গতি আনতে ঢাকাকে উত্তর ও দক্ষিনে ভাগ করা হয়। দুজন নগর পিতার ব্যবস্থা করা হয়। উত্তরে আনিসুল হক এবং  দক্ষিনে সাঈদ খোকন মেয়র হন। আনিসুল হক প্রথম পথ দেখান। তিনি প্রমাণ করেন, বিদ্যমান আইন ও বিধি ব্যবস্থায় মেয়র অনেক কিছুই করতে পারেন। তেঁজগাও ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, ঢাকার চাকা চালু সহ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার মৃত্যুর পর সব কিছু থমকে যায়। 

যেখানেই হাত দেয়া যায়, সেখানেই বাঁধা। এবার দুই সিটিতে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন, আতিকুল ইসলাম এবং ব্যরিষ্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তাপস বলেছিলেন দৃশ্যমান উন্নতি করতে চান তিনি। কিন্তু তার বক্তব্য যে কেবল কথার কথা ছিলো না, এটা তিনি প্রমাণ করছেন। প্রথমেই জলবদ্ধতা নিয়ে তিনি ওয়াশার ব্যর্থতা সরেজমিনে গিয়ে তুলে ধরেন। ঢাকার আকাশকে ঢেকে দিয়েছে তার। ইন্টারনেটের তার, ক্যাবল, ইত্যাদি যেন উপরেও জঞ্জালের বিস্তৃতি করেছে। আনিসুল হক এনিয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তখনও ইন্টারনেট আর ক্যাবল ব্যবসায়ীরা নয়ছয় বুঝিয়েছেন। টেলিযোগাযোগ আর তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রীরা বলেছেন ‘সর্বনাশ হবে।’ এবার তাপস লড়াইটা জমিয়ে তুললেন।

 অবৈধ এসব তার অপসারণের নির্দেশ দিলেন। মন্ত্রীদের কথা শুনলেন না। অবশেষে আজ মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করলেন ইন্টারনেট এবং ক্যাবল সেবা প্রদানকারীদের প্রতিনিধিরা। তারা আশ্বাস দিলেন, নভেম্বরের মধ্যে তারা সব তার অপসারণ করবেন। যে কাজ দুই যুগেও হয়নি, সেই কাজ এখন হচ্ছে। তাপস প্রমাণ করছেন, মেয়র জনগণের প্রশ্নে দৃঢ় থাকলে, ঢাকাকে বাসযোগ্য করা সম্ভব। যে সব ‘ভুত’ ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে দিতে চায় না, তাদের স্বার্থে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা জমিয়ে তুলেছেন তাপস।