ঢাকা, রোববার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নূরের দলে কারা থাকছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২০ রবিবার, ১০:০০ পিএম
নূরের দলে কারা থাকছে?

 

ডাকসু ভিপি নূর একটি নতুন রাজনৈতিক দল করতে চলেছে। এই বিষয়ে তিনি কোন লুকোচুরি করেননি; ঘোষণা দিয়েই বলেছেন যে, তিনি নতুন দল করছেন। নতুন এই রাজনৈতিক দলে চমক থাকবে বলেও নূর দাবি করেছেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি’র বাইরে গিয়ে দেশে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন নতুন কিছু নয়; এমন চর্চা চেষ্টা অনেক পুরনো। বিভিন্ন সময়ে এই চেষ্টা করা হয়েছিল। বিশেষ করে যখন অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসে তখন সুশীলরা এই রাজনৈতিক দলগুলো তৈরির চেষ্টা করে।

এর বড় প্রমাণ দেখা গেছে ২০০৬ সালে। যখন ড. মুহাম্মদ ইউনূস শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেলেন। সে সময় ইউনূসের নেতৃত্বে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল; পরে অবশ্য এই উদ্যোগ বাতিল হয়ে যায়। ইউনুস বিচক্ষণ মানুষ ছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, নোবেল জয় করা আর রাজনীতি করা এক বিষয় নয়। তিনি তাড়াতাড়ি করেই দলের এই উদ্যোগ গুটিয়ে ফেলেন এবং দল গঠন থেকে সরে আসেন।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ এবং ফখরুদ্দীন আহমদ একটি রাজনৈতিক অভিলাষ চরিতার্থ করতে চেয়েছিলেন। তারা প্রয়াত ড. ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর নেতৃত্বে ‘কিংস পার্টি’ গঠনের চেষ্টা করেন। কিন্তু কিংস পার্টিও সে রকম সফল হতে পারেনি। এছাড়া, সুশীলদের রাজনৈতিক দল হিসেবে গণফোরামকে সংগঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ১৯৯১ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে দলটি এখনো পর্যন্ত ধুকছে। মাঝপথে ভাঙ্গন হয়ে সংকটও সৃষ্টি হয়েছে।

এই রকম বাস্তবতায় ডাকসু ভিপি নূরকে দিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা চলছে। যে সুশীল গোষ্ঠী বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে তৃতীয় শক্তির উত্থানের চেষ্টা করেছে; যে শক্তি বাংলাদেশে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ চালু করার চেষ্টা করেছিল; যেই শক্তি বাংলাদেশে বিরাজনীতিকরণকে পৃষ্ঠপোষকতা করে; তারাই নূরকে মদদ দিচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে নূরের তৎপরতা, গণস্বাস্থ্যের ট্রাষ্টি ড. জাফরুল্লার তৎপরতা এবং বিএনপির কিছু কিছু নেতাদের কথা-বার্তা একই সুরে হচ্ছে। জানা গেছে, এই রাজনৈতিক প্লাটফর্মটিতে অনেকটা জগা খিচুড়ি তৈরি হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে যারা অপাংকেয়, অনাহুত এবং পরিত্যক্ত তাদেরকে এই রাজনৈতিক মোর্চার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। নূরের একটি বড় শক্তি হচ্ছে, তার ইতোমধ্যেই একটা প্লাটফর্ম আছে। ছাত্র অধিকার পরিষদের মাধ্যমে সারা দেশে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার একটি নেটওয়ার্ক আছে।

ডাকসু নির্বাচনে সবাইকে চমকে দিয়ে সে ভিপি হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটেই মনে করা হয়েছে যে, এসব বিষয়কে কাজে লাগিয়ে যদি রাজনৈতিক দলের মোড়ক দেওয়া যায় তাহলে সহজেই জনপ্রিয়তা পাওয়া যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছে যে, কিছু ইস্যু ভিত্তিক দাবি-দাওয়া নিয়ে ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা; আর একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক তৎপরতা এক বিষয় নয়। একটি রাজনৈতিক দলের অনেকগুলো বিষয় থাকে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে, দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য উদ্দেশ্য থাকে।

কিন্তু নূরের উত্থান পর্বে দেখা যায়, সে চটুল বিষয় নিয়েই মাঠ গরমে পারদর্শী। যেমন- কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। এখন ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন। একটা রাজনৈতিক দলের কাজ শুধু তাৎক্ষনিক ইস্যু নয়, রাজনৈতিক দলের কাজ হল একটি সুনির্দিষ্ট কর্ম-পরিকল্পনা ও লক্ষ্য আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা। ক্ষমতায় গিয়ে সেই আদর্শ বাস্তবায়ন করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত নূরের রাজনৈতিক চরিত্রই সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট নয়। কেউ তাকে জামাত শিবিরের গোপন এজেন্ট মনে করেন। অনেকে তাকে বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠা একটা চাপ প্রয়োগকারী গোষ্ঠী মনে করে। আবার অনেকে মনে করে যে, আওয়ামী লীগই তাকে সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী লীগ বিরোধী ছদ্মাবরনে সরকারকেই সমর্থন করছে নূর।

এই অস্পষ্ট রাজনৈতিক চরিত্র নিয়ে নূরের রাজনৈতিক দল কতটা সফল হবে- সেটাই এখন দেখার বিষয়।