ঢাকা, শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

এবার ফেইসবুক লাইভে এসে ভান্ডারীকে একহাত নিলেন নদভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২০ সোমবার, ১২:৪২ পিএম
এবার ফেইসবুক লাইভে এসে ভান্ডারীকে একহাত নিলেন নদভী

 

এবার সাংসদ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে হেফাজতে ইসলামের ‘আমির’ হওয়ার পরামর্শ দিলেন সাংসদ অধ্যাপক ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) নজিবুল বশর হেফাজতের আমির হিসেবে বর্তমান মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর নাম প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই প্রস্তাবেরই পাল্টা হিসেবে নদভীর এই ফেসবুক লাইভে আসা— এমনটি মনে করছেন অনেকে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে উদ্দেশ্য করে সাংসদ নদভী বলেন, ‘আমাদের কওমীদের সাথে যদি আপনি বেশি মহব্বত (ভালোবাসা) রাখেন, তাহলে আপনি হেফাজতের আমির হয়ে গেলে বেশি ভালো হবে। আমিরে হেফাজত, আল্লামা আহমদ শফী সাহেব মারা গেছেন। (এখন) আপনি আমিরে হেফাজত হয়ে গেলে বেশি ভালো হবে।’

মাইজভান্ডারীকে উদ্দেশ্য করে নদভী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে এসব বলার কোনো গুরুত্ব নেই। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি ডাইরেক্ট। আমি নৌকার এমপি। আপনি নৌকার এমপি না। আপনি তরিকত ফেডারেশন। আমি নৌকার এমপি, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিনিধি। আমাকে আপনি কী বলবেন? আমাকে এগুলো বলে লাভ কী? আপনি আল্লামা আহমদ শফী সাহেবকে সংসদে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেছেন এবং চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন বাহাস করবেন’।

অশালীন গালি দেওয়া নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আল্লামা আহমদ শফীকে গালি দেওয়া মানে মওলানা হোছাইন আহমদ মাদানীকে গালি দেওয়া। আপনাদের এটা জানা দরকার, ভারতবর্ষকে ইংরেজ থেকে মুক্ত করার জন্যে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন মুসলমানরা। মুসলমানদের মধ্যে সব থেকে বেশি ভূমিকা রেখেছেন আলেম ওলামারা। ওসব আলেম ওলামা কারা? আকায়েদে দেওবন্দ (দেওবন্দের অনুসারীরা), মুহাম্মদ কাসেম নানুতুবি, মাওলানা রশিদ আহমেদ গাঙ্গোহি, মাহমুদুল হাসান দেওবন্দি, হোছাইন আহমদ মাদানী— ইনাদের নেতৃত্বে ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়েছে। উনাদের ব্যাপারে কথা বলা, উনাদের সমালোচনা করাটা কাম্য নয়। আল্লামা আহমদ শফীকে গালি দেওয়া মানে মওলানা হোছাইন আহমদ মাদানীকে গালি দেওয়া।’

এলাকার কওমি মাদ্রাসাগুলোতে বেশ কয়েকবার ৫০ হাজার ডলারের চেক এবং বিদেশী মেহমান নিয়ে একাধিকবার গিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন সাংসদ নদভী। মাদ্রাসাগুলোতে বিদেশী সাহায্য বন্ধ হয়ে গেলে সাংসদ নদভী চিঠি দিয়ে আবার বিদেশি সাহায্য চালু করেছেন— এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘এসব মাদ্রাসার সাথে আমার সম্পর্ক এভাবে হয়েছে।’ এসব মাদ্রাসায় তাফসীর, সুন্নাহ, ফিকাহ, ইসলামের ইতিহাস ও আদবে আরবীর উপর লেকচার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করে তিনি।

সাংসদ ভান্ডারীকে উদ্দেশ্য করে নদভী বলেন, ‘দেওবন্দ তরিকার আলেমরা নিজেরাই শুদ্ধ, নেককার, আল্লাহওয়ালা। তাদের মূল্যায়ন বা সত্যায়িত বা সার্টিফাই করতে অন্য মানুষ দরকার নেই। আপনার মতো ব্যক্তির বলার দরকার নেই যে দেওবন্দ তরিকার অমুক অনেক বড়, অনেক বড়’।

ফেসবুক লাইভের শেষ দিকে তিনি দেওবন্দের অনুসারী আলেমদেরকে সহিহ আকিদায় অটল থাকার আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি কওমি মাদ্রাসার সনদের সরকারি স্বীকৃতি, দেশব্যাপী ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন।