ঢাকা, শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হাজী সেলিমের দায় কেন আওয়ামী লীগ নিচ্ছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০২০ শুক্রবার, ০৬:৫৯ পিএম
হাজী সেলিমের দায় কেন আওয়ামী লীগ নিচ্ছে?

গতকাল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ওই কমিটিতে উপদেষ্টামণ্ডলীর ২য় সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে হাজী সেলিমকে। হাজী সেলিমের নামটি হাতে লেখা হয়েছে। অর্থাৎ প্রথমে হাজী সেলিমের নাম ছিল না। যে তালিকা সে তালিকাটি দেখলে বোঝা যায়, অন্য একটি নাম কেটে দিয়ে হাজী সেলিমের নাম ঢোকানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ একটি দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে ছিল, তারা হাজী সেলিমকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করবে কি করবে না। শেষ পর্যন্ত হাজী সেলিমের দায় নিজের কাঁধে তুলে নিল আওয়ামী লীগ। এই কমিটিতে রাখার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ হাজী সেলিমের দূর্নীতি-অনিয়ম জমি দখলসহ অপকর্মের কিছুটা হলেও ভার দলের কাধেঁ নিয়ে নিল। কেন আওয়ামী লীগ হাজী সেলিমের দায় নিল? সেটি একটি বড় প্রশ্ন বটে।

বিশেষ করে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের ঘটনার পর যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে মনে করা হচ্ছিল যে, হাজী সেলিমের রাজনীতিক অধ্যায় পরিসমাপ্তি হবে এবং হাজী সেলিম নিজেই যখন নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছিলেন। এমনকি জনসম্মুখে তাকে দেখা যাচ্ছিল না। ঠিক সেই সময় হাজী সেলিমকে নতুন জীবন দিলো আওয়ামী লীগ। প্রশ্ন উঠেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে হাজী সেলিমকে না রাখলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হত? কারণ আওয়ামী লীগের কমিটিতে উপদেষ্টামন্ডলীর তেমন কোন কাজ নেই, এটি এক ধরনের স্বীকৃতি। এটির মাধ্যমে দল তার অবদানকে স্মীকার করে নেয়। তিনি একজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি এটি স্মরণ করা হয়। কিন্তু এই ঘটনাটি বাংলাদেশ একটি ভুল বার্তা দিবে।

হাজী সেলিমের পুত্র নৌ কর্মকর্তাকে পেটানোর পর গ্রেপ্তার হয়েছেন। এখন হাজী সেলিমের বিভিন্ন কাহিনী গণমাধ্যমে প্রতিদিনই প্রকাশিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও হাজী সেলিমের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ছিলেন।  তারাও এখন হাজী সেলিমের প্রস্থানের অপেক্ষায় রয়েছে। এই কমিটিতে হাজী সেলিম কে রাখার কোনো বাস্তব যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। হাজী সেলিম এই কমিটিতে একজন উপদেষ্টা হিসেবে দলের জন্য কোনো অবদান রাখবেন তেমন সুযোগ নেই। তাহলে কেন হাজী সেলিমকে উপদেষ্টা করা হলো।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনে করছে যে, কৌশলগত কারণেই হাজী সেলিম কে উপদেষ্টা হিসেবে দলে রাখা হয়েছে। হাজী সেলিম গত কমিটিতে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। হাজী সেলিম লালবাগ এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় এবং তার নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে এবং তার অনুগত বাহিনীর সংখ্যাও কম নয়। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মনে করছে, হঠাৎ করেই যদি হাজী সেলিম কে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে একটা ভুল বার্তা যাবে এবং এলাকায় সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়বে।

আওয়ামী লীগের অন্য একজন নেতা বলেছেন, হাজী সেলিম এখন পর্যন্ত এমপি হওয়ার পরও তিনি যদি দলের কমিটিতে না থাকেন তাহলে সেটি দলের জন্য একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাছাড়া হাজী সেলিমের কর্মীবাহিনী রয়েছে সে কর্মীবাহিনীও নিরুৎসাহিত হযয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। তারা যেহেতু আদর্শিকভাবে অত শক্তিশালী দৃঢ় অবস্থানে নেই, ফলে তারা অন্য দলে চলে যেতেও কার্পণ্য করবে না। আর একারণেই হাজী সেলিম কে সাইনবোর্ড হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কমিটিতে রাখা হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ যে আদর্শিক চর্চার কথা এখন বলছে এবং রাজনৈতিক যে শুদ্ধ পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তাতে এটি ছিল হাজী সেলিমকে কমিটি থেকে বাদ দেয়ার মোক্ষম সুযোগ। কারণ ইরফান সেলিমের ঘটনা এবং তার পরবর্তী সময়ে হাজী সেলিমের বিভিন্ন ভূমি দখলের কেচ্ছা কাহিনী প্রকাশিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ যদি হাজি সেলিম কে এই কমিটিতে না রাখত, তাহলে হয়ত আওয়ামী লীগের ইমেজ এবং সুনাম দুটোই ব্যর্থ । কিন্তু আওয়ামী লীগ কেন হাজী সেলিমের দায় নিজের কাঁধে তুলে নিল সে এক বিরাট বড় প্রশ্ন বটে।