ঢাকা, শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আবার সাম্প্রদায়িক ও ভারত বিরোধী জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০২০ শুক্রবার, ০৭:৫৯ পিএম
আবার সাম্প্রদায়িক ও ভারত বিরোধী জোট

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নীরবে নতুন মেরুকরণ ঘটছে। বিএনপি এবং জামাত বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বৃহত্তর জোট গঠন করতে যাচ্ছে। এই জোটে সাম্প্রদায়িক এবং ভারতবিরোধী শক্তিগুলোকে রাখা হবে। বিএনপিও তার আগের রূপে ফিরে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় যে সাম্প্রদায়িক এবং ভারত বিরোধী অবস্থানে ছিল সেই অবস্থানেই তারা আবার ফিরে যাচ্ছে। বিএনপির অনেক নেতাই মনে করছে যে, ওটাই বিনপির আসল পরিচয়। ওখান থেকে সরে এসে বিএনপি যত বেশি ভারতের প্রতি নমনীয় এবং অসাম্প্রদায়িক হওয়ার চেষ্টা করেছে, ততো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিএনপির ভোটব্যাংক হুমকির মুখে পড়েছে। আর এ কারণেই বিএনপি এখন আবার সাম্প্রদায়িক এবং ভারত বিরোধী জোটের নেতা হওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির একাধিক নেতা ইসলামিক পছন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলেছে। লন্ডন থেকে তারেক জিয়াও তিনটি  ইসলাম পছন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, হেফাজতের নতুন কমিটি হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা নতুন মেরুকরণ ঘটেছে। এর মাধ্যমে একটি ভারত বিরোধী ইসলামী ঐক্যের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে বিএনপি নেতারা হেফাজতের নতুন আমির বাবুনগরীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়াও খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গেও বিএনপির সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপির আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল। এর বাইরেও ক্রিয়াশীল দক্ষিণপন্থী উগ্রবাদী রাজনৈতিক দলগুলোকেও বিএনপি কাছে পাবার চেষ্টা করছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনের ঐক্যের কথা বলে আসছে এবং সে চেষ্টাও কম করেনি।

গত নির্বাচনের সময়ে বিএনপি জোট করতে গিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিল। কিন্তু বিএনপি নেতারা বলছেন যে, এই ফ্রন্ট বিএনপির আদর্শের পরিপন্থী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পটভূমিতেই বিএনপি গড়ে ওঠে। বিএনপির মূল ভিত্তি ছিল ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে ভারত বিরোধী মানসিকতাকে উস্কে দেয়া। এটি নিয়েই তারা বাংলাদেশে আওয়ামী বিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছিল। জিয়াউর রহমান একদিকে যেমন সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলোকে বৈধতা দিয়েছিলেন, তেমনি ভাবে তার মন্ত্রিসভায় স্বাধীনতা বিরোধীদের কে জায়গা করে দেয়। দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে এক ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক চর্চাই বিএনপির প্রধান বৈশিষ্ট ছিল।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়াও একই ধারা বজায় রাখেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর তিনি জামাতের সহযোগিতায় ক্ষমতা দখল করে। ২০০১ সালেও বিএনপি-জামায়াত জোট হয় এবং সে সময়ে বিএনপি জামাত ইসলামের দুজন যুদ্ধাপরাধীকে মন্ত্রীত্ব দেন। এই সময়ে বিএনপি এবং জামাতের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশে-ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতার সুযোগ করে দেয়া হয়। ভারত বিরোধীতাকে উস্কে দেয়া হয়। পাকিস্তানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোকে রেখে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদিকে উস্কে দিয়ে এই উপমহাদেশে ভারতকে অস্থির করে তোলা বিএনপির বৈদেশিক নীতির একটি অন্যতম অনুষঙ্গ বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

কিন্তু ২০০৯ এর পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপি সে জায়গা থেকে দৃশ্যত সরে আসতে থাকে। বিএনপি নেতাদের মধ্যে ভারত বিরোধী কথাবার্তা আস্তে আস্তে কমতে থাকে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে তারা নীরবতা অবলম্বন করেন । ইসলামপন্থি যে কথাবার্তা, সেগুলো বিএনপি নেতৃবৃন্দ কমিয়ে আনে। তবে এখন তারেক জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি মনে করছে, তাদের ভুল ভেঙেছে এই পথ বিএনপি নয়। কাজেই এখন তারা আবার জামাত ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন, হেফাজতসহ ইসলাম পছম দলগুলোকে ঐক্য করতে চাইছে। এর মাধ্যমে একটি দৃশ্যমান জোট করে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের চিন্তাভাবনা করছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে যেহেতু সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি ভাস্কর্য নিয়ে এক ধরনের উস্কানির সৃষ্টি করছে আর সে কারণেই বিএনপি হয়তো এখন এ ব্যাপারে উৎসাহি হচ্ছে তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য। কিন্তু অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বার বার আন্দোলনের  চেষ্টা বিএনপির কতটা সফল হবে এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।