ঢাকা, শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আলোচনায় বাবুনগরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২০ শনিবার, ০৬:০০ পিএম
আলোচনায় বাবুনগরী

হেফাজতের নতুন আমির জুনায়েদ বাবুনগরী। কট্টরপন্থী এবং উগ্রবাদি হিসেবে তিনি পরিচিত। জামাত ঘরনার রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা আছে বলে অনেকেই মনে করেন। খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গেও বাবুনগরী ঘনিষ্ঠ। বাবুনগরী প্রথম আলোচনায় আসে ২০১৩ সালের ৫ মে। হেফাজত ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই এই কর্মসূচী ঘোষণার পরপরই ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে সারাদেশ থেকে কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে জড়ো করা হয়। এই আন্দোলনকে সরকার উৎখাত আন্দোলনে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে যারা উদ্যোক্তা ছিলেন তাদের মধ্যে বাবুনগরী অন্যতম বলে অনেকেই মনে করেন।

২০১৩ সালের ৫ মে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঢাকায় ব্যাপক ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। তারা বায়তুল মোকাররমের দোকানপাটে আগুন লাগিয়ে দেয়, অনেক বাসে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়াও বিভিন্ন মানুষকে আক্রমণ করে। এরকম পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তাদের কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেন এবং অবস্থান সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। রাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযোগের প্রেক্ষিতে হেফাজতের কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায় এবং বাবুনগরীকে সে সময় গ্রেপ্তার করা হয়। বাবুনগরী বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

পরবর্তিতে আল্লামা শফির সঙ্গে সরকারের এক ধরনের সমঝোতা হয় । এই সমঝোতার ফলেই মামলাগুলোকে আস্তে আস্তে হিমাগারে পাঠানো হয় এবং এ সমস্ত মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। আল্লামা শফীর সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠতার প্রেক্ষিতে বাবুনগরী হেফাজতে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। আল্লামা শফীর শেষ দিকে এসে বাবুনগরীকে অকার্যকর এবং নিষ্ক্রিয় করে ফেলেন।  কিন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে আল্লামা শফি দলের তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেনি। আর তখনি বাবুনগরীর হেফাজতে যারা রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রক্ষা করে হেফাজতের মধ্যেই ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠেন।আল্লামা শফি মারা যাওয়ার পর বাবুনগরীর আমির হওটা ছিল অবধারিত।

হেফাজত সূত্রে জানা গেছে যে, হেফাজতের সারাদেশের নেটওয়ার্ক এবং কওমি মাদ্রাসার কে ঘিরে কর্মকাণ্ড। তাতে আল্লামা শফীর পরেই বাবুনগরীর অবস্থান ছিল । আল্লামা শফী মৃত্যুর পর এখন বাবুনগরী এই সমস্ত পকেট গুলোতে জনপ্রিয়। আর এ কারণেই বাবুনগরীকে আমির হতে বেশি বেগ পেতে হয়নি। যদিও আল্লামা শফীর পুত্র বাবুনগরীর আমীর হওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু হেফাজতের অধিকাংশ মুরুব্বী এবং আলেম-ওলামা বাবুনগরীর পক্ষে রয়েছেন। এ কারণে শেষ পর্যন্ত আল্লামা শফী পন্থীরা খুব একটা বেশি কিছু করতে পারবে বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা। হেফাজতের ভাঙ্গনের যে কথা বলা হচ্ছে সে ভাঙ্গন হলেও বাবুনগরী হেফাজতের মূল অংশে থাকবেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

কিন্তু বাবুনগরীকে নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি আছে সবার মধ্যে। বাবুনগরী কট্টোরপন্থি এবং উগ্রবাদকে লালন করেন। ফলে বাবুনগরী আমীর হওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে বিএনপি এবং ইসলাম পছন দলগুলো। তারা মনে করছে বাবুনগরীকে দিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন কে উস্কে দেয়া যাবে। বাবুনগরীর সাথে বিএনপি-জামাতের ঘনিষ্ঠতাও সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় সাত বছর খাঁচায় পুরে রাখা হেফাজতকে নিয়ন্ত্রণের জন্য বাবুনগরী সঙ্গে আওয়ামী লীগকে একটা সমঝোতায় যেতে হবে বলে মনে করেন অনেকে। আর জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও কাজ করা হচ্ছে। আর এ কারণেই হঠাৎ করে আলোচনায় এসেছে বাবুনগরী। তাকে নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে এক ধরনের টানাহেঁচড়া চলছে। শেষ পর্যন্ত বাবুনগরী কার পক্ষে জান সেটাই দেখার বিষয়। তবে আমীর হওয়ার পর উগ্রবাদকে ধারণ করলেও বাবুনগরী এখন পর্যন্ত কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য দেননি। বরং তিনি কার পকেটে যাবেন সেটার জন্য দরদাম করছেন। শেষ পর্যন্ত বাবুনগরিকে কে বশীভূত করতে পারে সেটাই দেখার বিষয়।