ঢাকা, শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভ্যাকসিন নিয়ে নানা জটিলতায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২০ শনিবার, ০৭:০০ পিএম
ভ্যাকসিন নিয়ে নানা জটিলতায় বাংলাদেশ

এটা মোটামুটি এখন নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত করোনার প্রকোপ থেকে মুক্তি পাবে না বিশ্ব। আর তাই এখন লকডাউন কিংবা স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে ভ্যাকসিনের দিকেই মনোযোগ গোটা বিশ্বের । ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন দৌড়ে এগিয়ে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ফাইজার বাজারজাত করার জন্য মার্কিন প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, চলতি মাসের মধ্যে কিংবা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ফাইজারের ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগের অনুমোদন দেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঔষধ প্রশাসন। এর ফলে বিশ্ব করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন পাবে। যদিও এর আগে চীন এবং রাশিয়া ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে। কিন্তু সে ভ্যাকসিন গুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত নয় এবং কার্যকর কিনা তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

তবে ফাইজারের ভ্যাকসিন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন বিতর্ক নেই। ফাইজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে মর্ডানার ভ্যাকসিন।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মর্ডানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা আগামী সপ্তাহেও এই ভ্যাকসিনের বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য এফডিএ আবেদন করবে। ফলে বিশ্বে অন্তত দুটো ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগের জন্য আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। যে ভ্যাকসিনটা নিয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী ছিল এবং যে আশাবাদের কারণে ভ্যাকসিন উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ চুক্তি করেছিল সেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন দৌড়ে এখন তৃতীয় স্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। এই ভ্যাকসিনটি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের বয়স্কদের মধ্যে প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে। 

অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন যেটি ভারতের সিরাম প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করছে উপমহাদেশের জন্য, সেই ভ্যাকসিনটি পেতে পেতে এপ্রিল-মে মাস লাগবে। আর তার ফলে যেটি দাঁড়িয়েছে যে বাংলাদেশের জন্য আগামী গ্রীস্মের আগে ভ্যাকসিন আসবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। ফলে ভ্যাকসিন নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছে। তবে শুধু ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নয় ভ্যাকসিন নিয়ে বাংলাদেশে এখন নানা রকম জটিলতার মধ্যে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এই জটিলতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:-

১। ভ্যাকসিন সংরক্ষণ এবং প্রয়োগ: ধারণা করা হচ্ছে বাংলাদেশ সিরামের ভ্যাকসিনের দিকে মনোযোগী এবং সিরামের ভ্যাকসিন বাংলাদেশে প্রথম বাজারে আসবে। কিন্তু ফাইজারের ভ্যকিসিন যদি এফডিএ অনুমতি দেয় তাহলে সে ক্ষেত্রে ফাইজারের ভ্যাকসিন প্রথম বিশ্ববাজারে আসবে। ফাইজারের সঙ্গে যেহেতু বাংলাদেশের রেডিয়েন্ট নামক একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান চুক্তি আছে, সেহেতু এই ভ্যাকসিন বাংলাদেশে চলে আসবে । তখন এই ভ্যাকসিনের মূল্য কিভাবে নির্ধারিত হবে, কিভাবে মানুষ কিনবে এবং সরকার কি করবে তা নিয়ে এক ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।  যদিও রেডিয়েন্ট বলছে যে ভ্যাকসিন প্রথমে সরকারকে দিবে। সরকার এই ভ্যাকসিন নেবে কিনা সেটাও একটা প্রশ্ন।

২। ভ্যাকসিন সংরক্ষণ: ফাইজারের ভ্যাকসিনের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক দিক হলো এটি মাইনাস ৭০ ডিগ্রী টেম্পারেচারে সংরক্ষণ করতে হয়। বাংলাদেশ নিয়ে আসার পর কিভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং বিতরণ করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন সাপেক্ষ বটে। কারণ বাংলাদেশে মাইনাস ৭০ তাপমাত্রায় ভ্যাকসিন সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা নেই।

৩। ভ্যাকসিন প্রাপ্তি: বাংলাদেশ কখন ভ্যাকসিন পাবে? যে চুক্তি হয়েছে তাতে বলা হয়েছে  সিরামের ভ্যাকসিন উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে প্রথম লট বাংলাদেশ পাবে। কিন্তু ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে অন্য কথা। তারা বলছে যে, এই ভ্যাকসিন গুলো ভারতে প্রবীনদের মধ্যে প্রয়োগ করা হবে এবং বিদেশে রপ্তানির আগে ভারতের বাজারে দেয়া হবে। আর সেটি যদি করা হয় তাহলে ভ্যাকসিন পেতে বাংলাদেশে বিলম্ব হবে। অর্থাৎ বিশ্বের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পরও বাংলাদেশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাবে কিনা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ভ্যাকসিন বাংলাদেশের জনগণ ব্যবহার করতে পারবে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, সব মানুষের ভ্যাকসিন প্রাপ্তি যেটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে যে, একসঙ্গে সব মানুষকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ সম্ভব না। সে ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন নিয়ে বাংলাদেশে একটি নতুন জটিলতা আশঙ্কা করা হচ্ছে।