ঢাকা, শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যেসব বিষয়ে কঠোর হচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২০ শনিবার, ০৭:৫৯ পিএম
যেসব বিষয়ে কঠোর হচ্ছে সরকার

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে। এই ইস্যুগুলো সরকারকে নানারকম অস্বস্তিতে ফেলছে। তবে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল সূত্রে জানা গেছে, সরকার এ ধরনের ইস্যুগুলোতে মোটেও উদ্বিগ্ন নয় বরং কঠোর হবে এ ধরনের উস্কানীমুলক তৎপরতা এবং ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে বদ্ধপরিকর। আর এজন্য সরকার কঠোর অবস্থানে যেতেও কার্পণ্য করবেনা। একাধিক সরকারি সূত্রে জানা গেছে যে, সরকার সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন। যে বিষয়গুলো নিয়ে সরকার কোনরকম সমঝোতায় যাবে না, বরং কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে। যে সমস্ত বিষয়গুলো নিয়ে কঠোর অবস্থানে যেতে পারে সরকার তার মধ্যে রয়েছে:-

১। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য : সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে যে ধোলাইপাড়ে এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে সরকার কোনরকম আপোষ-সমঝোতার মধ্যে যাবে না, এ নিয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। সরকারের একাধিক মন্ত্রী বলেছেন, আওয়ামী লীগের ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। এ সমস্ত ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের উস্কানিতে আওয়ামী লীগের পিছু হটার কোন কারণ নাই। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে ভবিষ্যতে যদি কেউ বাড়াবাড়ি করে সে ব্যাপারে সরকারের অবস্থান হবে অত্যন্ত কঠোর।

২। জঙ্গিবাদ বন্ধ: আবার দেশে জঙ্গিবাদের উৎপাত শুরু হয়েছে। মাঝখানে নিষ্ক্রিয় থাকার পর এখন আবার বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিদের তৎপরতা লক্ষ্য করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান এর পর ঢাকার উত্তরাতে ৩১ টি বোমা পাওয়া গেছে। যেটিও জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাজ বলে মনে করছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন । আর এখন সরকার জঙ্গিবাদ বন্ধে আবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যাপারে সর্তকতা জারি করা হয়েছে। সরকারি সূত্রগুলো মনে করছে, দেশকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল করার জন্য জঙ্গি সংগঠনগুলোকে ব্যবহার করা হতে পারে এবং এই জঙ্গি সংগঠনগুলোকে উস্কে দেয়া হতে পারে। আর এজন্যই এখন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আবার সাঁড়াশি অভিযানে যাচ্ছেন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।

৩। প্রশাসনের শুদ্ধি অভিযান: সাম্প্রতিক সময়ে সরকার লক্ষ্য করছে যে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় স্বাধীনতাবিরোধী জামাত পন্থী এবং বিএনপিপন্থী লোকজন আছে। তারা সক্রিয় ভুমিকা পালন করছে সরকারকে বিব্রত অবস্থায় ফেলার জন্য। তারা এ সমস্ত কর্মকাণ্ড করছে যা সরকারের নীতি এবং অবস্থানের পরিপন্থী। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্য স্তরের কিছু কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে। আর এ কারণেই সরকার প্রশাসনে একটি শুদ্ধি অভিযানে যাচ্ছে। যে শুদ্ধি অভিযানে জামাত-বিএনপি পন্থিদেরকে চিহ্নিত করা হবে। যারা সরকারের নীতি আদর্শের পরিপন্থী কর্মকাণ্ড করছে তাদেরকে শাস্তি মূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

৪। আর জ্বালাও-পোড়াও সহ্য করা হবে না: গত ১২ নভেম্বর কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল এই বিষয়টা নিয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে গেছে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, সরকার এখন জ্বালাপোড়াও এর ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে গেছে। এ ধরনের ঘটনা যদি ভবিষ্যতে কেউ ঘটাতে চায় তাদের কেও কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। ১২ নভেম্বরের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে খুঁজে বের করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৫। পুরানো মামলা সচল করা হবে: ২০১৪-১৫ সালে যারা অগ্নিসন্ত্রাস সহ বিভিন্ন সহিংসতায় জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো দ্রুত চালু করা এবং তদন্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কারণ সরকারি সূত্রগুলো মনে করছে, সেই সময় ওই ঘটনায় সঙ্গে যারা জড়িত তারা এখন নতুন করে সংঘটিত হয়ে অপকর্ম করার চেষ্টা করছে। তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে চিরতরে বন্ধ করতে চায় সরকার। এর এর জন্যই কঠোর অবস্থানে যেতে চায় সরকার।