ঢাকা, শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বাবু নগরীর দীর্ঘ চাহিদার ফর্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২০ রবিবার, ১০:০০ পিএম
বাবু নগরীর দীর্ঘ চাহিদার ফর্দ

 

হেফাজতের নতুন আমির হওয়ার পর বাবু নগরী সোচ্চার হয়েছেন । তিনি গতকাল সিলেটে বলেছেন, নাস্তিক মুরতাদদের বিরুদ্ধে তিনি জিহাদ করতেই দায়িত্ব নিয়েছেন। আর সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত করছেন। হেফাজতের আমীর হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে হেফাজতকে নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন বাবুনগরী। হেফাজতের বর্তমান যে কমিটি সেই কমিটির একটি রাজনৈতিক মোড়গ পাওয়া যাচ্ছে। এই কমিটির অধিকাংশ সদস্যই কোনো-না-কোনো ইসলামিক রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করছে। যদিও আল্লামা শফী যখন আমির ছিলেন তখন তিনি রাজনৈতিক বাতাবরণ থেকে হেফাজতকে মুক্ত রাখতে চেয়েছিলেন। বরং আলেম-উলামা এবং কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক একটি শক্তিশালী ধর্মভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটাকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু জুনায়েদ বাবুনগরী শুরু থেকেই এটাকে একটি রাজনৈতিক পরিচয় দিতে চাচ্ছেন। হেফাজতের সম্মেলনে নতুন কমিটির মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক পরিচয় উপস্থাপন করতে চাইছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, এই রাজনৈতিক পরিচয় বা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধী অবস্থান, কিংবা নাস্তিকতার বিরোধি বক্তব্য আসলে একটি চাল। বাবুনগরী আসলে সরকারের কাছ থেকে অনেক কিছু আদায় করে নিতে চান। বাবুনগরী জানেন যে সরকার শেষ পর্যন্ত হেফাজতের সাথে একটি সমঝোতা করবে। যেমন সমঝোতা করেছিল আল্লামা শফীর সাথে। সেই সময় আল্লামা শফীর বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। এই ধারায় বাবুনগরীর চাহিদার তালিকাও এখন দীর্ঘ। একাধিক সূত্র বলছে, বাবুনগরীর সঙ্গে সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন মহলের যোগাযোগ হচ্ছে। সেই যোগাযোগের আসলে এক ধরনের দর কষাকষি হচ্ছে। বাবু নগরী সরকারের কাছ থেকে বেশকিছু আর্থিক এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেতে চায়। তবে এ নিয়ে সরকারের কেউ এখন পর্যন্ত মুখ খুলছেন না

সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলো বলছে,বাবু নগরী সরকারের কাছ থেকে প্লট বরাদ্দ চান। এ জন্য তিনি ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে আবেদন করেছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।  এছাড়া বাবু নগরী কওমী মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য এককালীন আর্থিক অনুদান চান, তিনি কওমী মাদরাসার জন্য করোনাকালিন যে শিক্ষকদের আর্থিক দুরাবস্থা, এজন্য তিনি আর্থিক প্রনোদণা চান। সারা দেশে যে সমস্ত মজিদের কওমী মাদ্রাসার ইমাম এবং মোয়াজ্জেম আছে তাদের বেতন এবং সুযোগ সুবিধা চান। এছাড়াও  তার কিছু ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া রয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই কওমী মাদ্রাসাকে আনুষ্ঠানিক স্মীকৃতি দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার কারণেই বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিকীকরণ ঘটেছিল। শেখ হাসিনা সরকার আলেম ওলামাদের জন্য যা করেছিলেন সেটি অন্যন্য অসাধারন, অনুকরনীয়। আর এ কারণেই শেখ হাসিনা যদি কওমী মাদ্রাসা বা আলেম ওলামাদের জন্য যৌক্তিক কোন দাবী থাকে তাহলে সেটি তিনি শুনবেন। অতীতে যে ভাবে তিনি ন্যায় সঙ্গত দাবী মেনে নিয়েছিলেন, এবারো তিনি দাবী গুলো মেনে নিবে। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক সুত্র বলছে, সরকার এখনি হেফাজতের সঙ্গে কোন কঠোর অবস্থানে যেতে চায় না। আপোষ সমঝোতার মাধ্যমে হেফাজতকে বশে রাখতে চায় । আর একারণেই শেষ পর্যন্ত এই দাবিদাওয়াগুলো নিয়ে সরকারের প্রভাবশালীরা হেফাজতের সাথে কথা বলছেন। খুব শিগ্রই হেফাজতের অবস্থা এবং রূপ পরিবর্তন হবে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য তৈরি হবে এবং বাবুনগরীর নেতৃত্বে হেফাজতও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সহযোগিতা রেখে আলেম সমাজের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাবে।